✒️ছোটগল্প: অকৃত্রিম ভালোবাসা

 


✒️ছোটগল্প: অকৃত্রিম ভালোবাসা

✓তারিখ:১৬/০৬/২০২৫

মগার আলির মেয়ে রেনু। ছোটবেলা থেকেই সে গরুকে অত্যন্ত ভালবাসে। তার দিন শুরু হয় গাভীর মুখে হাত বুলিয়ে, আর শেষ হয় তার গায়ে বিলি বুলিয়ে। রেনুর কাছে এই গাভী কেবল একটি গৃহপালিত পশু নয়, বরং পরিবারেরই একজন সদস্য। রেনু নিজ হাতে গাভীকে ঘাস খাওয়ায়, পরিষ্কার করে তার গোয়ালঘর, এমনকি গাভীর গোবর নিজ হাতে সাফ করে ফেলে। এই সমস্ত কাজ করতে সে কখনো বিরক্ত হয় না। বরং এই কাজে সে খুঁজে পায় এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি।
রেনুর গাভীটি সাদা-কালো রঙের, চেহারায় শান্ত স্বভাবের হলেও মাঝে মাঝে একটু চঞ্চল হয়ে পড়ে। তেমনই একদিন হঠাৎ করেই ঘটল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। প্রতিদিনের মতো রেনু সকালে গাভীর দুধ দোহন করতে বসেছে। কিন্তু আজ যেন গাভীটির মন মেজাজ ভালো নয়। আচমকা এক লাথি মেরে রেনুকে ফেলে দেয় গোবরের উপর। সেই সঙ্গে মুখে দিয়ে দেয় এক গোছা চুনো।
আচমকা এমন কাণ্ডে হতবিহ্বল রেনু কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাশের বাড়ির মনু মিয়া ছুটে এসে দৃশ্যটি দেখে হো হো করে হেসে ওঠে। সে মজার ছলে বলে,
— “আহারে রেনু, তোর গরুটা তোকে লাথি মেরে ফেলেই দিল না, আবার মুখেও চুনো করে দিল! তোর গরু-ভালোবাসার ফল এই তো! যাক, শুনেছি ভারতবর্ষে যারা গরুকে খুব ভালোবাসে তারা নাকি গরুর মলমূত্র পর্যন্ত খায়। তুইও তো এতো ভালোবাসিস, একটু চুনো মুখে পেয়েছিস, খারাপ কী!”
রেনু মন খারাপ না করে ধীর হাসিতে বলল,
— “তোমার কথা ঠিক। আমি গরুকে ভালোবাসি প্রাণ দিয়ে। যে গাভী আমাকে প্রতিদিন দুধ দেয়, পেট ভরায়, তার একটা লাথি বা একটু চুনো যদি মুখে লাগে, সেটা আমার কাছে অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ। ভালবাসলে সবই মধুর লাগে।”
মনু মিয়া কিছুটা লজ্জিত হয়। সে বুঝে যায়, এই ভালোবাসা নিছক লোক দেখানো নয়। রেনুর গরুর প্রতি ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম, নির্মল আর নিঃস্বার্থ। দুধের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সে যা করে, তা শহরের লোকেরা হয়তো বোঝে না।
এই ঘটনাই প্রমাণ করে, রেনুর ভালোবাসা ছিল নিছক আবেগ নয়, ছিল একান্ত হৃদয় থেকে আসা ভালোবাসা — যাকে বলে অকৃত্রিম ভালোবাসা।

রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 

প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা নওগাঁ।

তারিখ:১৬/০৬/২৫

প্রকাশিত: বাংলার কথা অনলাইন পত্রিকা।

Gmail: islamiclecturer7@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ