মজার গল্প:কচু মিয়ার বিদেশযাত্রা

 

মজার গল্প:কচু মিয়ার বিদেশযাত্রা

কচু মিয়া ছিল গ্রামের এক সাধারণ মানুষ। দিনমজুরির কাজ করেই কোনোরকমে সংসার চলত। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা, সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে জীবন ছিল খুবই কষ্টের। একদিন গ্রামেরই কয়েকজন প্রবাসী এসে তাকে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিল। বলল, “বিদেশে গেলে টাকা রোজগার করা যায়, কিছু বছর কষ্ট করলে জীবন পাল্টে যাবে।”

কচু মিয়ারও মন চাইল ভাগ্য বদলাতে। বাড়ির এক টুকরো জমি বেচে, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে সে দুই-তিন লাখ টাকা জোগাড় করল। অনেক কষ্টে ভিসা হলো, অবশেষে সে পাড়ি জমাল মরুর দেশে।

কিন্তু বিদেশে পৌঁছেই তার স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার তফাৎ চোখে পড়ল। যেই কাজের কথা দেশে শুনেছিল, তা আসলে হোটেল ম্যানেজার বা কোনো বড় পদ নয়। তাকে দেওয়া হলো রাস্তার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ। প্রথম দিন কাজে নেমেই মন ভেঙে গিয়েছিল। মাথার উপরে প্রখর রোদ, হাতে শুধু ঝাঁটা আর বেলচা। দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। মনে হলো—দেশে থাকলে কেউ তাকে এই কাজ করতে বললে লজ্জায় ডুবে মরত।

কিন্তু দেশে পরিবার আছে, সন্তানদের মুখে অন্ন জোটাতে হবে। তাই কচু মিয়া দাঁতে দাঁত চেপে কাজ চালিয়ে গেল। মাস শেষে বেতন পেয়ে যখন টাকা দেশে পাঠাল, তখন মনে হলো—এই ঘাম, এই কষ্টই তার পরিবারের হাসির কারণ।

বছর কয়েক এভাবেই কেটে গেল। কচু মিয়া প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করেছে, ময়লা কেটেছে, রাস্তা ঝেটেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে জমে গেল টাকার অঙ্ক। দেশে পাঠানো সেই টাকা দিয়ে স্ত্রী জমি কিনল, ছেলেমেয়েকে পড়াশোনায় রাখল। অবশেষে একদিন কচু মিয়া গ্রামে ফিরে এল।

ফিরে এসে সে একটা বড় ব্যবসা শুরু করল। দোকান, গুদাম আর চাষাবাদের ব্যবসায়ে সে সফল হলো। মানুষ তাকে দেখে অবাক হলো—একজন সাধারণ দিনমজুর এখন সফল ব্যবসায়ী!

গ্রামের অনেকে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল—
— “কচু মিয়া, বিদেশে কী কাজ করতেন?”
কচু মিয়া একটু হাসলেন, বললেন—
“ডি.সি.এম. এর কাজ করেছি।”

লোকেরা ভেবেই পেল না এই “ডি.সি.এম.” আবার কী জিনিস! কারো মনে হলো হয়তো বড় কোনো গাড়ি চালাতেন, কারো মনে হলো সরকারি অফিসে কাজ করেছেন।

একদিন গ্রামেরই এক তরুণ সাহস করে জিজ্ঞেস করল—
— “চাচা, আসলেই বলুন তো, ডি.সি.এম. মানে কী?”

কচু মিয়া এবার গম্ভীর হয়ে উত্তর দিলেন—
— “ডি মানে ড্রেন, সি মানে ক্লিন, এম মানে ম্যান। আমি ড্রেন ক্লিন ম্যানের কাজ করেছি। রাস্তায় ময়লা পরিষ্কার করেছি।”

তরুণেরা প্রথমে চুপ হয়ে গেল। কচু মিয়ার চোখেমুখে কোনো লজ্জা নেই, বরং গর্ব। তিনি বললেন—
— “দেশে আমরা ছোট কাজ করতে লজ্জা পাই, কিন্তু বিদেশে গিয়ে এই কাজ করেই পরিবারকে বাঁচাই, জীবন বদলাই। কাজ ছোট নয়, সৎ উপার্জনটাই বড়।”

তার কথা শুনে গ্রামের অনেকেই নতুন করে ভাবল। আসলেই তো—যে কাজ মানুষের উপকারে আসে, আর যেটা সৎভাবে জীবিকা যোগায়, তা কখনো ছোট হতে পারে না।

👉 শিক্ষণীয় কথা:
কাজ ছোট নয়, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিই কাজকে ছোট বা বড় করে তোলে। সৎ উপার্জনই প্রকৃত মর্যাদা।


🖋️রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
তারিখ:২৯/০৯/২০২৫


Copyright ©️ All rights reserved by author Faridul Islam

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ