প্রবন্ধ:চক্রান্ত, হিংসা ও বিদ্বেষ: ইসলামের দৃষ্টিকোণ, রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:২/০৯/২০২৫

 প্রবন্ধ:চক্রান্ত, হিংসা ও বিদ্বেষ: ইসলামের দৃষ্টিকোণ


মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পর্কের জগতে আবদ্ধ। পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র—সবখানেই মানুষ একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করে। কিন্তু কখনো কখনো এই মেলামেশার মধ্যে চক্রান্ত, হিংসা ও বিদ্বেষ জন্ম নেয়। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী এগুলো হলো মানব মন এবং চরিত্রের এমন দুর্বলতা, যা শুধু ব্যক্তিকে নয়, সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।


চক্রান্ত: আড়ি ও প্রভাব


চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র হলো কাউকে ক্ষতি বা অশুভ উদ্দেশ্যে ফন্দি চালানো। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন,


> “নিশ্চয়ই যারা অবাধ্য এবং ষড়যন্ত্রকারী তারা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” (সূরা আনফাল: ৩০)




চক্রান্ত শুধুমাত্র অন্যের ক্ষতি করার জন্য নয়, এটি নিজের নৈতিকতা ও বিশ্বাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলামে সততা, ঈমান ও সৎ চিত্তকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলমানের উচিত অন্যের প্রতি সদিচ্ছা ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া।


হিংসা: আত্মার অন্ধকার


হিংসা হলো অন্যের প্রগতি, সৌভাগ্য বা সুখ দেখে কটু বা নেতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করা। হিংসা মানব মনকে বিষাক্ত করে এবং আত্মার শান্তি নষ্ট করে। নবী করিম (সা.) হিংসা ও রূঢ়তার প্রতি সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন,


> “হিংসা যেমন আগুনের মতো, সে যা খায় তা নিজেরই ক্ষতি করে।”হিংসার পরিবর্তে মুসলমানকে চাই একে অপরের জন্য দোয়া করা, পরস্পরের উন্নতি দেখে আনন্দিত হওয়া এবং ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতায় জীবনকে আলোকিত করা।


বিদ্বেষ: সম্পর্কের বিষ

বিদ্বেষ হলো এমন মানসিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি অন্যকে অকারণে অপছন্দ বা ঘৃণা করে। বিদ্বেষ কখনো কখনো চক্রান্ত ও হিংসার জন্ম দেয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন,

> “আপনি যদি ক্ষমাশীল হন এবং মাফ করে দেন, আল্লাহ তা আপনাদের জন্য পছন্দ করেন।” (সূরা আশ-শূরা: ৪০)

মুসলিম সমাজে বিদ্বেষ দূর করার জন্য মাফ করার, সহনশীল থাকার এবং ভালো কাজের দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।


ইসলামের শিক্ষায় সমাধান


১. ইমান ও তাকওয়া: আল্লাহর ভয় ও প্রেম হৃদয়ে থাকলে চক্রান্ত, হিংসা ও বিদ্বেষ স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়।

২. ধৈর্য ও সংযম: রাগ, ঈর্ষা ও বিদ্বেষের মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করলে ক্ষতি এড়ানো যায়।

৩. সৎতা ও ন্যায়পরায়ণতা: সব পরিস্থিতিতে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া মুসলিম চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৪. দোয়া ও কৃতজ্ঞতা: অন্যের জন্য দোয়া করা এবং নিজের কাছে যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা মনকে পবিত্র রাখে।


উপসংহার


চক্রান্ত, হিংসা ও বিদ্বেষ মানুষের অন্তরের অন্ধকার। এগুলোকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করলে না শুধুমাত্র ব্যক্তি, বরং পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামী শিক্ষা আমাদের শেখায়, সদয় মন, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা ও সৎ চরিত্রই জীবনের প্রকৃত আলোক। তাই আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের মন ও হৃদয়কে বিশুদ্ধ রাখার চেষ্টা করি, যাতে চক্রান্ত, হিংসা ও বিদ্বেষের কোনো স্থান না থাকে।


শেষ কলমে, 

মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম

Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ