অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা : ক্ষমতার অপব্যবহার এক চরম গাদ্দারী, রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺
অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা : ক্ষমতার অপব্যবহার এক চরম গাদ্দারী।
শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক পবিত্র বন্ধন। শিক্ষক আলোর দিশারী, ছাত্র সেই আলোর পথিক। কিন্তু যখন কোনো শিক্ষক বা অভিভাবক ছাত্রকে হেয় প্রতিপন্ন করে, তার যোগ্যতাকে অস্বীকার করে কিংবা বিদ্বেষ পোষণ করে, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত অন্যায় নয়; বরং শিক্ষার উদ্দেশ্য ও মানবতার প্রতি এক প্রকার চরম গাদ্দারী।
১. শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য
শিক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ করা। কোরআনুল করীমে বলা হয়েছে—
“আল্লাহ সে মানুষকে উত্তমভাবে প্রতিপালন করেন, যাকে তিনি জ্ঞান দান করেন।” (সূরা মুজাদিলা: ১১)
অর্থাৎ, জ্ঞান অর্জন এবং অন্যকে শেখানো মহান একটি দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় ছাত্রকে হেয় করা বা তার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ধ্বংস করে।
২. হেয় করার মনোবৃত্তি
ছাত্রকে হেয় করার পেছনে দুটি মনোবৃত্তি কাজ করতে পারে—
(ক) ছাত্রের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব উপলব্ধি না করা।
শিক্ষক যদি ছাত্রের অবস্থান, মানসিকতা বা সমস্যা বুঝতে ব্যর্থ হন, তবে তার প্রতি অবহেলা জন্মায়। এই অবহেলাই ধীরে ধীরে হেয় প্রতিপন্ন করার রূপ নেয়।
(খ) বিদ্বেষ বা অহংকার পোষণ করা।
কখনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, কখনো অহংকারের কারণে শিক্ষক ছাত্রকে ছোট করে থাকেন। অথচ বিদ্বেষ ও অহংকার উভয়ই ইসলামে নিন্দিত। মহানবী (সা.) বলেছেন—
“কোনো মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করাই মন্দ কাজ।” (সহীহ মুসলিম)
৩. হেয় করার ফলাফল
ছাত্রের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়।
তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নষ্ট হয়।
শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়।
সমাজে যোগ্য নাগরিক গড়ে ওঠা ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থী যদি বারবার হেয় প্রতিপন্ন হয়, তবে তার মনে বিদ্রোহ, ভয়, অবসাদ কিংবা শিক্ষার প্রতি বিতৃষ্ণা জন্ম নিতে পারে।
৪. প্রকৃত শিক্ষকের দায়িত্ব
প্রকৃত শিক্ষক কখনো হেয় করেন না; বরং তিনি দুর্বলকে উৎসাহ দেন, গাফিলকে সাবধান করেন, যোগ্যকে স্বীকৃতি দেন। হযরত আলী (রা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি তোমাকে একটি অক্ষরও শিক্ষা দিয়েছে, সে তোমার শিক্ষক।”
অতএব, শিক্ষকের প্রতি সম্মান যেমন ছাত্রের দায়িত্ব, তেমনি ছাত্রকে মর্যাদা দেওয়া শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব।
৫. উপসংহার
ছাত্রকে হেয় প্রতিপন্ন করা, তার প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা বিদ্বেষ পোষণ করা—এসবই চরম গাদ্দারী। এটি শুধু ছাত্রের সাথে অন্যায় নয়; বরং শিক্ষা, সমাজ এবং মানবতার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ককে মর্যাদা ও সহমর্মিতার উপর প্রতিষ্ঠা করলেই প্রকৃত শিক্ষা প্রসার লাভ করবে।
রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
আরবি প্রভাষক বলদীআটা ফাজিল মাদ্রাসা ধনবাড়ী টাঙ্গাইল জেলা।
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন