সমাজে গান আর অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে সমাজকে রসাতলে নিয়ে যাওয়া, রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:২২/০৯/২০২৫

 সমাজে গান আর অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে সমাজকে রসাতলে নিয়ে যাওয়া


ভূমিকা

মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গ সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়। সমাজের উন্নতি মানেই মানুষের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উন্নতি। আবার সমাজের অধঃপতন মানেই মানুষের চিন্তা-চেতনা, সংস্কৃতি এবং আদর্শের অবক্ষয়। বর্তমান যুগে যে একটি বড় সংকট আমাদের চোখে পড়ছে তা হলো— গান ও অশ্লীলতার মাধ্যমে সমাজকে ধীরে ধীরে রসাতলে নিয়ে যাওয়া। সঙ্গীতের নামে অশ্লীলতা, বিনোদনের নামে অশ্লীল দৃশ্য ও কথাবার্তা আজ সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করছে। আর এর ফলেই সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক অশান্তি এবং তরুণ প্রজন্মের চরিত্রহানি।


✓গান ও অশ্লীলতার প্রসার : একটি সামাজিক রোগ

ইসলাম নৈতিকতা ও শালীনতার ধর্ম। কিন্তু আধুনিক সমাজে গান ও অশ্লীলতার মাধ্যমে শালীনতার বিপরীতে অশ্লীলতার ঝড় বইছে। একদিকে চলচ্চিত্র, নাটক ও টিভি অনুষ্ঠানগুলোতে অশ্লীলতার প্রদর্শন; অন্যদিকে মোবাইল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য অশ্লীল গান, ভিডিও ও নাচ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সমাজের মানুষকে বিশেষ করে তরুণদের অশান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:

 "তুমি অশ্লীলতার কাছেও যেয়ো না— তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন।" (সুরা আনআ‘আম: ১৫১)

অশ্লীলতার প্রসার শুধু যে ব্যক্তিগত জীবন নষ্ট করে তা নয়; বরং সমাজকেও অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়।


✓অশ্লীল গানের প্রভাব

১. চরিত্রের অবক্ষয়: অশ্লীল গান মানুষকে কামনা-বাসনা ও অসুস্থ কল্পনায় নিমজ্জিত করে। এতে সতীত্ব, লজ্জাশীলতা ও নৈতিকতা বিলীন হয়।

২. তরুণ প্রজন্মের বিভ্রান্তি: সুরের মোহে তারা আসক্ত হয়, পড়াশোনা ও নৈতিক উন্নয়ন থেকে বিমুখ হয়ে যায়।

৩. পারিবারিক অশান্তি: অশ্লীল বিনোদনের প্রতি আসক্তি পরিবারে দ্বন্দ্ব, বিচ্ছেদ ও ভাঙনের সৃষ্টি করে।

৪. সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি: গান ও অশ্লীলতার প্রভাবে ধর্ষণ, পরকীয়া, খুনখারাবি ইত্যাদি বেড়ে যায়। দুই দুই সন্তান রেখে মা অন্য নাগরের হাত ধরে পালিয়েছে এমন ঘটনা নিত্য ঘটছে যা মিডিয়া আমাদেরকে প্রমাণ দিচ্ছে।


রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:


> “আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা ব্যভিচার, রেশম পরিধান, মদপান ও বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ গণ্য করবে।” (সহীহ বুখারী)

এই হাদীস প্রমাণ করে যে বাদ্যযন্ত্র ও অশ্লীল গানকে বৈধ করার মাধ্যমেই সমাজ ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়।


✓সমাজকে রসাতলে নেওয়ার পেছনের মূল কারণ


✓বাণিজ্যিক স্বার্থ: গান ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করা যায়।

✓পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ: বিদেশি সংস্কৃতি নকল করে আমাদের সমাজে অশ্লীলতা ছড়ানো হচ্ছে।

✓ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া: কুরআন-হাদীসের শিক্ষা থেকে দূরে থাকার কারণে মানুষ হারামকে হারাম মনে করছে না।

✓প্রযুক্তির অপব্যবহার: মোবাইল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহজেই গান-অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।


সমাধানের উপায়

১. সমাজে ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিকতার প্রসার ঘটাতে হবে।

২. পরিবারে সন্তানদের শৈশব থেকেই ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে।

৩. রাষ্ট্র ও সমাজকে অশ্লীলতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. গণমাধ্যমে শালীন ও শিক্ষণীয় বিনোদন প্রচার করতে হবে।

৫. ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেকে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।


উপসংহার

গান ও অশ্লীলতা সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—এ সত্য আজ সুস্পষ্ট। অশ্লীলতার ছড়াছড়ি সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই বলা যায়, গান ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজকে রসাতলে নিয়ে যাওয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো এই অশ্লীলতার ঢেউ থেকে সমাজকে রক্ষা করা, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শালীন ও নৈতিক জীবনযাত্রার ব্যবস্থা করা। কেবল তাহলেই সমাজ রক্ষা পাবে এবং সুস্থ সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটবে।

রচনায় :মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 

প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা, নওগাঁ।

সাবেক: আরবি প্রভাষক বলদীআটা ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসা ধনবাড়ী টাঙ্গাইল জেলা।

copyright ©️ All rights reserved by author

 maulana MD FARIDUL Islam 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ