ছোট গল্প:গুইনার ফাঁদে কুকুর, রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺

ছোট গল্প:গুইনার ফাঁদে কুকুর


গ্রামের সকালের বাতাসটা আলাদা—শীতল, কুয়াশামাখা আর শান্ত। চারদিক সবুজে ভরা, মাঝখানে ধানক্ষেতের উপর ভোরের শিশির চিকচিক করছে। মাঠের পাশ দিয়ে কাঁচা মাটির সরু রাস্তা চলে গেছে, দুইপাশে বাঁশঝাড়, সুপারি আর খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে আছে নিরব প্রহরীর মতো।


এই গ্রামে লোকজন ঘরের চারপাশে ছোটখাটো বেড়া দিতেই পছন্দ করে। বেড়ার খুঁটি বাঁশের, আর ফাঁকগুলোতে গুইনা নামের চিকন লোহার তার ব্যবহার করা হয়। গুইনা দেখতে অনেকটা মোটা সুতোর মতো, কিন্তু শক্তিতে বেশ দারুণ। মুরগি বা হাঁস যাতে বাইরে বের না হয়, কিংবা অন্য কারও মহিষ-ছাগল যাতে জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট না করে, সেই জন্যই এই গুইনা বাঁধা।


একদিন দুপুরে গ্রামের রোদের তাপে চারপাশ যেন ঝলসে উঠছিল। ঠিক সেই সময় এক ভুঁইফোঁড় কুকুর বেড়ার ভেতর ঢুকতে গিয়ে গুইনার সাথে আটকে গেল। গলা ও পা দুটো গুইনায় জড়িয়ে পড়তেই সে ছটফট শুরু করল। হুড়মুড় করে টানাটানি করতে করতে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে আশেপাশের বাতাস ভরে গেল।


গ্রামের পাশের বনের দিকে তখন এক শেয়াল খাবারের খোঁজে বের হয়েছিল। কুকুরের অস্থির ডাক শুনে শেয়াল ধীরে ধীরে কাছে এলো। লুকোচুরি করে শেয়াল গাছের ঝোপ থেকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে লোভ, মনে হলো—“এই কুকুরটা তো আর বেশিক্ষণ বের হতে পারবে না, ধরা খাবেই।”


কিন্তু ঘটল অন্য ঘটনা। শেয়াল একটু এগিয়ে আসতেই শুকনো ডালপালা ভেঙে একটা শব্দ হলো। কুকুর ভয় পেয়ে গেল। ভয়ে হঠাৎ এমন ঝাঁকুনি দিল যে গুইনা থেকে গলা ছিঁড়ে বেরিয়ে গেল। মুক্তি পাওয়া মাত্রই কুকুর লেজ গুটিয়ে ছুট দিল গ্রামের ভেতরকার নিরাপদ জায়গার দিকে। শেয়াল হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।


গ্রামের দু’একজন কৃষক দূর থেকে এই দৃশ্য দেখছিল। তারা হেসে বলল,

—“বুঝলি রে, কুকুরটা না ভয় পেতো তো ওই গুইনার ফাঁদে পড়েই শেষ হয়ে যেত। ভয়ই তার বাঁচার কারণ হলো।”


এমন ছোট ছোট ঘটনাই গ্রামের জীবনে রঙ ছড়িয়ে দেয়। এখানে শুধু মানুষ নয়, পশুপাখিরাও নিত্যদিনের কাহিনি রচনা করে। ভোরের শিশির, দুপুরের রোদ, আর সন্ধ্যার ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক—সব মিলিয়ে গ্রামের পরিবেশ এক অন্যরকম সৌন্দর্য তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি ঘটনার পেছনেই থাকে শেখার মতো কিছু না কিছু। 

copyright ©️ All rights reserved by author

 maulana MD FARIDUL Islam 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ