স্বাস্থ্যসেবা: মহান ইবাদত, কিন্তু হয়রানি নয়, রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:২৩/০৯/২০২৫

 

স্বাস্থ্যসেবা: মহান ইবাদত, কিন্তু হয়রানি নয়

মানুষের জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে অমূল্য আমানত। এই জীবনের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অন্যতম বড় মাধ্যম হলো স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসা প্রদান একটি মহৎ পেশা এবং একইসাথে ইসলামের দৃষ্টিতে এক প্রকার ইবাদতও বটে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “প্রতিটি রোগের জন্যই আল্লাহ রোগ নিরাময়ের উপায় সৃষ্টি করেছেন।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ চিকিৎসা করা কেবল একটি পেশা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক মহান দায়িত্ব।

স্বাস্থ্যসেবার ইবাদত রূপ

যখন একজন চিকিৎসক আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে রোগীকে সেবা দেন, তখন তার প্রতিটি প্রচেষ্টা ইবাদতে রূপান্তরিত হয়। মানুষের কষ্ট লাঘব করা, রোগ নিরাময় করা কিংবা রোগীর পাশে থেকে সান্ত্বনা দেওয়া—এসব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি একটি প্রাণকে রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।” (সূরা মায়িদাহ: ৩২)। এ আয়াত চিকিৎসক সমাজের জন্য গভীর অনুপ্রেরণার উৎস।

হয়রানি ও প্রতারণার বিপদ

দুঃখজনকভাবে, অনেক সময় কিছু চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এ মহান পেশাকে ব্যবসায় রূপান্তরিত করেন। অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, অযৌক্তিক অপারেশন কিংবা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তারা রোগী ও তার পরিবারকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি গুরুতর অন্যায় ও গুনাহ। রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন, “যে আমাদেরকে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম)। প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা আসলে ইবাদতের পথ থেকে সরে গিয়ে কসাইয়ের পথ অনুসরণ করার সামিল।

সামাজিক ক্ষতি

অসৎ চিকিৎসা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, বরং সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। মানুষের চিকিৎসার প্রতি আস্থা নষ্ট হয়, দরিদ্র পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয় এবং মানবিক সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের ভুল কাজ গোটা সমাজে চিকিৎসকদের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। ফলে প্রকৃত সৎ চিকিৎসকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ইসলামের দৃষ্টিতে সমাধান

ইসলাম সর্বদা ন্যায়, সততা ও কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাই চিকিৎসকদের উচিত—
১. রোগ নির্ণয়ে সততা বজায় রাখা।
২. প্রয়োজনীয় টেস্ট বা চিকিৎসা দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চাপিয়ে না দেওয়া।
৩. রোগীর অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে যতটা সম্ভব সহজ উপায়ে চিকিৎসা করা।
৪. নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়িয়ে রোগীর জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. প্রকৃত সেবক দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে কম ভিজিটে রোগী দেখবেন এটাই হল সেবার মাহাত্ম্য। কিন্তু বর্তমান সমাজে কসাই নামক কিছু ডাক্তার রয়েছে যারা মানুষের হয়রানি করে অর্থ আদায় করে থাকে যা নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত মানবিকতার এক কলঙ্কিত অধ্যায়।

চিকিৎসা পেশায় যারা এই নীতি মেনে চলবেন, তারা শুধু রোগীর কল্যাণই করবেন না, বরং আল্লাহর নিকট মহৎ ইবাদতের মর্যাদা লাভ করবেন।

উপসংহার

স্বাস্থ্যসেবা আসলে মানুষের সেবায় নিবেদিত এক মহৎ ইবাদত। তবে এটি তখনই ইবাদত থাকে, যখন তা কল্যাণ ও সততার ভিত্তিতে হয়। হয়রানি, প্রতারণা ও অর্থলোভের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করলে সেই চিকিৎসা ইবাদত নয়, বরং অন্যায় ও গুনাহে পরিণত হয়। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত চিকিৎসা পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং এটিকে মানুষের কল্যাণের সত্যিকারের পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা

 copyright ©️ All rights reserved by author

 maulana MD FARIDUL Islam 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ