ভন্ডদের আকিদা ও বিদআতি কর্মকান্ড থেকে বাঁচার উপায়। রচনায়; মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:৮/০৯/২০২৫
ভন্ডদের আকিদা ও বিদআতি কর্মকান্ড থেকে বাঁচার উপায়
১. ইসলামি আকিদার মূলনীতি
ইসলামে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” ছাড়া আর কোনো কালেমা নেই।
যে ব্যক্তি নিজের নামে নতুন কালেমা তৈরি করে অথবা নিজেকে সেজদা করতে বলে, সে নিঃসন্দেহে কুফরি ও শিরকের মধ্যে পতিত হয়েছে।
কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে:
“অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না, তা না হলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা ইউনুস: ১০৬)
“সেজদা করো তোমার রব্বকে।” (সূরা আলাক: ১৯)
সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্যকে সেজদা করা হারাম ও শিরক।
২. লাশ না পচা – এর প্রকৃত অর্থ
কিছু মানুষ দাবি করে, অমুক পীর মারা গেলেও লাশ পচে নাই। এখানে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে:
1. লাশ না পচা অলৌকিকতা নয় বরাবরই
পৃথিবীর অনেক মৃতদেহ প্রাকৃতিক কারণে দীর্ঘ সময় অক্ষত থাকে। যেমন:
বিশেষ মাটি বা জলবায়ুর কারণে দেহ শুকিয়ে যায়, মমির মত টিকে থাকে।
রাসায়নিক বা ওষুধ দিয়ে সংরক্ষণ করলে দেহ দীর্ঘদিন নষ্ট হয় না।
গভীর ঠান্ডা বা বরফাচ্ছাদিত স্থানে রাখা দেহ বহু বছর অক্ষত থাকে।
তাই দেহ অক্ষত থাকা মানেই অলৌকিকতা বা মর্যাদার প্রমাণ নয়।
2. আল্লাহ যাকে চান তাকেই সম্মান দেন
প্রকৃত অলৌকিকভাবে লাশ অক্ষত থাকা শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে ইকারাম (সম্মান) হতে পারে।
কিন্তু কারা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা তা নির্ধারণের মূল মাপকাঠি হলো তার আকিদা ও আমল।
আল্লাহ বলেন:
“আল্লাহ কারো সৎকর্মকে ব্যর্থ করেন না।” (সূরা আলে ইমরান: ১৭১)
যদি কারো আকিদা নষ্ট হয়, সে শিরক করে, তাহলে তার জন্য কোনো ইকারাম নেই।
৩. ভন্ডদের ফাঁদে না পড়ার উপায়
যারা বলে: “লাশ পচে নাই, তাই সে বড় পীর”—তাদের উত্তর হবে:
ইসলামের মানদণ্ড হলো আকিদা ও আমল, লাশ অক্ষত থাকা নয়।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (বুখারি, মুসলিম)
সুতরাং, যে ব্যক্তি নতুন কালেমা বানালো, নিজেকে সেজদা করতে বললো, সে ইসলামের বাইরে। তার লাশ না পচলেও তা কোনো প্রমাণ নয় যে সে ওলি ছিল।
৪. ইতিহাস থেকে উদাহরণ
বহু কবরস্থানে আমরা কাফের বা হিন্দু/বৌদ্ধ দেহও পচে না যাওয়ার উদাহরণ পাই। তাহলে কি তারা আল্লাহর ওলি? নিশ্চয়ই নয়।
ফেরাওনের লাশ আজও সংরক্ষিত আছে, যাকে আল্লাহ নিজেই বলেছেন:
“আমি তোমার দেহকে আজ রক্ষা করব, যাতে তুমি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক।” (সূরা ইউনুস: ৯২)
কিন্তু সে তো আল্লাহর সবচেয়ে বড় শত্রুদের একজন ছিল।
৫. সংক্ষিপ্ত জবাব
যদি বাতিলপন্থীরা বলে, অমুক পীরের লাশ অক্ষত—
আপনি উত্তর দিবেন:
লাশ অক্ষত থাকা কোনো প্রমাণ নয় যে সে আল্লাহর বন্ধু।
প্রকৃত মানদণ্ড হলো তার আকিদা ও জীবন।
যে শিরক করেছে, নতুন কালেমা বানিয়েছে, সে ইসলামের বাইরে। তার লাশ না পচা কেবল প্রাকৃতিক কারণ বা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি/নিদর্শনও হতে পারে।
“ইসলামে সম্মানিত হওয়ার মাপকাঠি হলো আল্লাহর প্রতি তাওহীদ, রাসূল ﷺ এর আনুগত্য ও সুন্নাহর অনুসরণ। লাশ অক্ষত থাকা কোনো প্রমাণ নয়। ফারাওনের লাশও আজ অক্ষত আছে, অথচ সে ছিল কাফের। তাই ভন্ড পীরের লাশ অক্ষত হলেও তাকে ওলি বা পীর বলা যায় না।”
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন