নগ্ন পোশাক (কাসিয়াতুন আরিয়াত )পরিহিত নারীদের ব্যাপারে ইসলাম আমাদের সমাজের বাস্তবতা। রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:১৬/১১/২০২৫

নগ্ন পোশাক (কাসিয়াতুন আরিয়াত )পরিহিত নারীদের ব্যাপারে ইসলাম আমাদের সমাজের বাস্তবতা।


প্রস্তাবনা

ইসলাম মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি দিককে পরিপূর্ণ করে। পোশাকও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে বিশ্বনবী ﷺ বারবার সতর্ক করেছেন এমন সব আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি সম্পর্কে, যা পরকালের পরিণতি ধ্বংসাত্মক করে দিতে পারে। হাদীসে বর্ণিত “كَاسِيَاتٍ عَارِيَاتٍ”— অর্থাৎ “পোশাক পরেও নগ্ন”— এ শ্রেণীর নারীদের প্রতি রাসূল ﷺ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

মুসলিম শরীফের বিখ্যাত হাদীসটিতে রাসূল ﷺ বলেন যে, এমন কিছু নারীর আবির্ভাব হবে যারা পোশাক পরবে, কিন্তু তাদের পোশাকই তাদের উলঙ্গতার কারণ হবে; যারা পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে; তাদের মাথার আকৃতি হবে উটের কুঁজের মতো চুলের আকৃতি দ্বারা। এদেরকে তিনি “জাহান্নামী” নারী হিসেবে ঘোষণা করেন।

এই বাণী কেবল একটি ভবিষ্যদ্বাণী নয়—এটি নৈতিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক বিপর্যয়ের কঠোর সতর্কবার্তা। আজকের সমাজে বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত নারীদের পোশাক, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও মিডিয়ার প্রভাব এ হাদীসের বাস্তবায়িত ছবি হয়ে উঠছে।

١. হাদীসটির সারমর্ম
১. বিশেষ দুই শ্রেণীর মানুষ—যাদেরকে রাসূল ﷺ নিজের যুগে দেখেননি
রাসূল ﷺ বলেন, পরবর্তীতে দুই শ্রেণীর জাহান্নামী মানুষের আবির্ভাব ঘটবে—
(১) গরুর লেজের মতো চাবুক নিয়ে জনগণকে প্রহারকারী দল — অর্থাৎ অন্যায় অত্যাচারকারী শাসক ও বাহিনী।

(২) কাসিয়াতুন আরিয়াত—পোশাক পরেও উলঙ্গ নারীরা
২. কাসিয়াতুন আরিয়াত—এ শব্দের গভীর ব্যাখ্যা
ইসলামী আলেমগণ এর তিনটি প্রধান ব্যাখ্যা করেছেন—
1. আল্লাহর নেয়ামতের পোশাক পরে, কিন্তু শোকর ও আনুগত্যে নগ্ন
অর্থাৎ বাইরে পোশাক থাকলেও তাদের আচরণ, দৃষ্টি, অঙ্গভঙ্গি, নৈতিকতা—সবকিছু উলঙ্গতার মতো।
2. অংশ ঢেকে অংশ উন্মুক্ত রাখা
বিশেষ অঙ্গ ঢাকলেও সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য দেহের আকর্ষণীয় অংশ প্রকাশ করা।
ইমাম আবূ দাউদ (র) তাঁহার সুনান গ্রন্থে বলেন, ইয়াকুব ইব্‌ন কা'ব আন্তাকী ও মু'আল্লিম ইন্ন ফল হাররানী (র) ..... হযরত আয়েশা (রা) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আসমা বিন্তে আবূ বকর (রা) নবী করীম (সা)-এর নিকট আসিলেন। তিনি পাতলা কাপড় পরিহিতা ছিলেন। অতএব রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুখ ফিরাইয়া লইলেন। এবং তিনি বলিলেনঃ
يا أسماء ان المرأة إذا بلغت المحيض لم يصلح منها الأهذا -
"হে আসমা! মেয়েরা যখন যৌবনে পদার্পণ করে, তখন তাহার এই অংগ ব্যতিত অন্য কোন অংগ দেখা জায়েয নহে।" এই বলিয়া তিনি তাহার চেহারা ও দুই হাতের কজির প্রতি ইশারা করিলেন।
✓ ইমাম আবূ দাউদ হাদীসটিকে মুরসাল বলিয়া অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন।আবু দাউদ -৪১০৪

وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ .

"আর ঐ সকল স্ত্রীলোক যেন তাহাদের গ্রীবা ও বক্ষস্থলকে তাহাদের উড়না দ্বারা আবৃত করে"। এইভাবে জাহেলী যুগে প্রচলিত স্ত্রীলোকদের প্রথার বিরোধিতা হয়। তাহারা তাহাদের বক্ষ (স্তন )আবৃত করিত না। এবং পুরুষের সম্মুখে তাহারা খুলিয়া রাখিত। অনেক সময় তাহারা স্বীয় গর্দান ও চুল ও খুলিয়া রাখিত এবং কানের লতি সমূহও। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা মু'মিন স্ত্রীলোকগণকে তাহাদের রূপ সৌন্দর্য ঢাকিয়া রাখিবার হকুম করিয়াছেন।
যেমন ইরশাদ হইয়াছেঃ
يَايُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنَ جَلَابِيبِهِنَّ ذَالِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ -

"হে নবী! আপনি আপনার বিবিগণকে, আপনার কন্যাগণকে এবং মু'মিনদের স্ত্রীলোকগণকে বলিয়া দিন তাহারা যেন চাদর দ্বারা তাহাদের শরীর আবৃত করে যেন তাহাদিগকে সহজে চিনিতে পারা যায়। এবং যেন তাহাদের কষ্ট দেওয়া না হয়"।
(সূরা আহযাব: ৫৯)
✓আলোচ্য আয়াতে ইরশাদ হইয়াছে:
وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ .
"তাহারা যেন তাহাদের উড়না দ্বারা তাহাদের গ্রীবা ও বক্ষস্থল আবৃত করে।"

خمار
অর্থ, উড়না, সাধারণত উহা দ্বারা মাথা ঢাকা হয় সাঈদ ইব্‌ন জুবাইর (র( অত্র আয়াতের তাফসীর প্রসংগে বলেন, স্ত্রীলোকদের পক্ষে তাহাদের উড়না দ্বারা তাহাদের বক্ষ বাঁধিয়া লওয়া উচিত, যেন বক্ষের কোন স্থান দেখা না যায়।
✓তাফসির ইবনে কাসির থেকে ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সূরা নূর - পৃষ্ঠা ৯৭
3. পাতলা, আঁটসাঁট বা চামড়া দৃশ্যমান পোশাক
কাপড় পরে আছে, কিন্তু তার ভিতর দেহের আকৃতি ও রং স্পষ্ট দেখা যায়।
এ তিনটি অর্থই আজকের আধুনিক ফ্যাশনে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।
٢. ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর পোশাকের মূলনীতি

✓কুরআনে আল্লাহ বলেন—
আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী,পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
“(সূরা আন-নূর: ৩১)
অন্য আয়াতে—
“হে নবী! আপনার নারীগণ ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের ওপর চাদর ঝুলিয়ে দেয়।”
(সূরা আল-আহযাব: ৫৯)
✓সাহাবীগণ, তাবেঈন, মুফাসসিরগণ ও চার ইমামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী—
✓পোশাক হবে ঢিলা, প্রকট না,
✓পাতলা নয়, যাতে দেহ দেখা যায়,
✓আকর্ষণ উদ্রেককারী নয়,
‎✓ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আভিশাপ দিয়েছেন যেসব নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যেসব পুরুষ নারীদের বেশ ধারণ করে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৯৭

✓সৌন্দর্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ...﴾
✓অর্থ: “তারা (মহিলা) তাদের সৌন্দর্য (শরীরের সৌন্দর্য) প্রকাশ করবে না, স্বামী ব্যতীত অন্য কারও সামনে।”
—সূরা নূর: ৩১
কাজের ভয়াবহতা:
✓আল্লাহর গজব ও শাস্তি
✓আখিরাতে অপমান
✓জাহান্নামের শাস্তি
মু'আবিয়াহ্ রা: হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: স্বীয় স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া সকল মানুষ হতে তোমার লজ্জাস্থানের হিফাযাত করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল। যদি কেউ (নির্জনে) একাকী থাকে? উত্তরে তিনি বললেন, তখন আল্লাহকেই লজ্জা পাওয়া অধিকতর কর্তব্য। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ)

বর্ণিত হাদীস প্রমাণ করে যে, নির্জন জায়গাতেও বিবস্ত্র হওয়া বৈধ নয়। কিন্তু ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর মতে নির্জন কিংবা একাকীত্ব গোসল করার ক্ষেত্রে বিবস্ত্র হওয়া বৈধ।
তিনি মূসা ও আইয়ুব (রহঃ)-এর ঘটনা থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন।
এখানে উভয় বর্ণনার সমন্বয়ে বলা যায় যে, বর্ণনাকৃত হাদীসটির উপর 'আমাল করা উত্তম। ইমাম বুখারী (রহঃ) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তার কথা, যে ব্যক্তি নির্জন স্থানে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করবে এবং যে ব্যক্তি ঢেকে গোসল করবে তার অধ্যায়। আর নির্জন স্থানে ঢেকে গোসল করা উত্তম।
وَعَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : «لَا يَخْلُونَ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثُهُمَا الشَّيْطَانُ».
رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ
✓ 'উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন কোনো পুরুষ অপর ( গায়রে মাহরাম তথা বিবাহ বৈধ এমন) নারীর সাথে নিঃসঙ্গে দেখা হলেই শয়তান সেখানে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয়। (তিরমিযী)
وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : «لَا تَلِجُوا عَلَى الْمُغَيِّبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ » قُلْنَا : وَمِنْكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : «وَمِنِى وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمَ ». رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ

জাবির হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নাবী বলেছেন: যে গৃহে স্বামী অনুপস্থিত থাকে তাদের (স্ত্রীদের) গৃহে তোমরা প্রবেশ করো না। কেননা, শিরায় রক্তের ন্যায় শায়তান তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে অবাধে বিচরণ করে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল। আপনার মধ্যেও কি (অনুরূপ)? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আল্লাহ তা'আলা শায়ত্বনের মুকাবালায় আমাকে সাহায্য করেছেন বলে আমি (শায়ত্বনের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট হতে) নিরাপদে আছি।
(তিরমিযী) মিশকাত -৩১১৯

এমন হতে পারে যে, মানুষের শিরা-উপশিরায় চলার জন্য শয়তান সক্ষমতা পেয়েছে। অথবা তার অত্যধিক কুমন্ত্রণার কারণে আলোচ্য হাদীসে সতর্ক করা হয়েছে।

٣. বর্তমান বাংলাদেশে নারীদের পোশাক ও ফ্যাশন—এক কঠোর বাস্তবতা
বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে শহরমুখী জীবন, মিডিয়া প্রভাব, নাটক-সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অনুসরণ—সব মিলিয়ে নারীর পোশাক আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে “কাসিয়াত আরিয়াত”-এর বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।

১. আঁটসাঁট ও শরীর-নকশা ফুটিয়ে তোলা পোশাক
✓স্কিন টাইট, বডি-শেপিং পোশাক
✓জিন্স-টপস, টাইট কুর্তি
✓এসব পোশাক শরীরের আকৃতি দৃশ্যমান করে যা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।
যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নারী তার স্তন বা দেহ পুরুষের সামনে প্রদর্শন করে, এবং তা অশ্লীলতা বা অনৈতিকতার উদ্দেশ্যে হয়, তবে এটি ফাহিশা (অশ্লীলতা) হিসেবে গণ্য হবে।
২. পাতলা কাপড় ও স্টাইলিশ “মডার্ন” শাড়ি
অনেক সময় শাড়ি বা ওড়না এমন পাতলা হয় যে দেহের রং ও আকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যা “কাসিয়াত আরিয়াত” সংজ্ঞারই অংশ।

৩. ‘হিজাব’ নামে নতুন ফ্যাশন
অনেক মেয়েরা হিজাব পরেন, কিন্তু—
✓অত্যন্ত আঁটসাঁট টপস
✓ফুল মেকআপ
✓গলার অংশ খোলা
✓শরীরদেখানো স্টাইল
✓এসব মিলিয়ে হিজাবটি কেবল বাহ্যিক প্রতীক হয়ে যায়, শারঈ হিজাব নয়।
৪. চুলের স্টাইল—উটের কুঁজের মতো আকৃতি
✓রাসূল ﷺ বর্ণনা করেছেন—
“তাদের মাথায় উটের কুঁজের মতো উঁচু আকৃতি হবে।”
আজকের ট্রেন্ডে—
✓উঁচু বান (High Bun)
চুল বা স্কার্ফের ভিতর কাপড় গুঁজে মাথা ফুলিয়ে রাখা
এগুলো হাদীসের বিবৃতির সাথে অভূতপূর্বভাবে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
৫. চলচ্চিত্র ও নাটকের নায়িকাদের পোশাক—সমাজকে বিপথগামী করার মূল মাধ্যম
বাংলাদেশি সিনেমা, ওয়েব সিরিজ ও টিভি নাটকে নায়িকারা—
✓অতি অল্প পোশাক,
✓শরীর প্রদর্শন,
✓মেকআপ, নাচ-গান, অশ্লীলতা
এসবকে “গ্ল্যামার” নামে প্রচার করা হচ্ছে, যা রাসূল ﷺ–এর সতর্কবাণী বাস্তবে পরিণত করছে।
ফলতঃ—
✓কিশোরীরা নায়িকাদের অনুকরণ করছে,
✓বাজারে সেলাই করা ফ্যাশন বাড়ছে,
✓সামাজিক লজ্জাশীলতা হ্রাস পাচ্ছে,
✓জিনা, ফিতনা, ধর্ষণ ও যৌন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
✓যৌন উদ্দীপক পোশাক পুরুষদেরকে নারী প্রতি আকৃষ্ট করে এবং তারা বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে লিপ্ত হয়।
✓নারীরা পর্দায় থাকার বস্তু যখন তারা ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তাদেরকে সুদর্শন করে পর পুরুষের সাথে উপস্থাপন করে।

٤. সমাজে এর ভয়াবহ প্রভাব

১. লজ্জাহীনতার ব্যাপক বিস্তার
রাসূল ﷺ বলেন—
“'আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক আনসারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের নাসীহাত করছিলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।
(৬১১৮; মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৬, আহমাদ ৪৫৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৪
যার লজ্জা নেই সে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে অর্থাৎ আল্লাহর ভয় অন্তর থেকে তার উঠে যায় এবং যে কোন অপকর্ম করতে দ্বিধাবোধ করে না।

যেখানে পোশাকে লজ্জাহীনতা, সেখানে—
অধ্যবসায় কমে যায়
✓নৈতিকতা ভেঙে পড়ে
✓দাম্পত্য সম্পর্ক দুর্বল হয়

২. পুরুষ-মহিলার ফিতনা বৃদ্ধি
অশ্লীল পোশাক ফিতনা জাগায়, যা পরকীয়া, জিনা এবং নৈতিক পতনের কারণ হয়।
‎✓আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের উপর যেনার একটি অংশ লিখা হয়েছে। সে তা পাবেই। মানুষের দু’চোখের যেনা দেখা। দু’কানের যেনা শুনা। জিহ্বার যেনা কথা বলা। হাতের যেনা স্পর্শ করা। পায়ের যেনা যেনার পথে চলা। অন্তরের যেনা হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা করা। লজ্জাস্থান তার সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে’।
(মুসলিম হা/২৬৫৭; মিশকাত হা/৮৬ ‘ঈমান’ অধ্যায়)

৩. প্রজন্ম ধ্বংস
বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল-অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হচ্ছে। অধিকাংশের রুচি, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।

৪. আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও আযাব
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“তোমরা পৃথিবীতে ফিতনা তৈরি করলে, তারপর শাস্তি তোমাদের গ্রাস করবে।”
(সূরা আল-বাকারা: ৮৫)

٥. আমাদের করণীয়—সমাজকে ফেরানোর কিছু উপায়

১. নারীদের শালীন পোশাকে উৎসাহ
✓ঢিলা, পর্দাসম্মত পোশাক
✓শরীর–আকৃতি অদৃশ্য রাখা
✓অপ্রয়োজনীয় স্টাইল ও সাজ-গোজ থেকে দূরে থাকা


২. পরিবারের ভূমিকা
✓মা-বাবা সন্তানের পোশাকে দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক রাখবেন
✓বাড়িতে শালীনতার চর্চা করবেন
৩. মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ
✓অশ্লীলতা মুক্ত নাটক-সিনেমা
✓হিজাবের সঠিক রূপ প্রচার
✓ইসলামি নৈতিকতা ভিত্তিক কনটেন্ট বৃদ্ধি


৪. উলামা-মাশায়েখের দায়িত্ব
✓মিম্বর-মেহরাবে হাদীসগুলো ব্যাখ্যা করা
✓যৌনতা ও ফ্যাশনের ফিতনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি

উপসংহার
রাসূল ﷺ–এর ভাষায় কাসিয়াতুন আরিয়াত নারী শুধুমাত্র একটি পোশাক-সংক্রান্ত বিষয় নয়—এটি একটি সভ্যতার অবক্ষয়ের চিহ্ন। আজকের সমাজে, বিশেষ করে বাংলাদেশের নগর জীবনে এই চিত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ফিল্মি সংস্কৃতি, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব মিলিয়ে নারীর পোশাক ধীরে ধীরে সেই ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে, যাকে বিশ্বনবী ﷺ জাহান্নামের সতর্ক–পূর্বাভাস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
আমাদের দায়িত্ব হলো—

আমার কবিতার ভাষায় -

উড়নার ছায়ায় লুকায় নারীর লজ্জার সৌন্দর্য ভরা,
জাহেলী দিনের প্রকাশ ভুলে আজ সে পথটা সঠিক করা।
বক্ষ গ্রীবা চুল ছিল খোলা—সেই যুগ এখন আর নয়,
ঈমানের আলোয় ঢেকে রাখে রূপ, পবিত্রতার পথে রয়।

আল্লাহর হুকুম মানা কত সুখ কত শান্তির ঠিকানা,
সৌন্দর্য রক্ষার এই পর্দাই নারীর মহিমা মানা।
লজ্জা তার ইমানের অংশ—দীপ্ত করে জীবন সাজা,
পর্দায় থাকে নিরাপদ নারী, পায় রবের বিশেষ রক্ষা।
-মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 

✓নিজেদের পরিবারকে রক্ষা করা,
✓সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা,
✓এবং সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ফিরে আসা।
আল্লাহ আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করুন, পোশাকে ও চরিত্রে হায়া দান করুন, এবং কাসিয়াত আরিয়াত ফিতনা থেকে সব মুসলিম নারীকে হিফাজত করুন।


🌺রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
💐প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা নওগাঁ।
তারিখ:১৬/১১/২০২৫
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ