মজার গল্প: তিলের চাষ রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ: ১৯/১০/২০২৫
মজার গল্প: তিলের চাষ
রচনায়: মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
তারিখ: ১৯/১০/২০২৫
এক বয়োজ্যেষ্ঠ গ্রামীণ আলিপুর গ্রামের কৃষক, নাম মাহমুদ আলী। তার ছিল এক ছোট বাগান যেখানে তিল—শস্য হিসেবে—চাষ করেছে। মহমুদ আলীর বয়স ইতিমধ্যে পঞ্চাশের ঘরে, শরীর একটু দুর্বল, বাগানের কাজও কমছে। কিন্তু তিলের বীজ সংগ্রহ ও তিলের তেল তৈরির জন্য তিনি নিয়মিত বাগানে যেতেন।
একদিন সকালে যখন তিনি বাগানে যাচ্ছিলেন, পেছন থেকে তার নাতি হৃদয় চিৎকার করে বলল, “দাদু! দাদু! এই তিলের গাছগুলো দেখ — কী সুদৃশ্য!”
মাহমুদ হাসিমাখা মুখে বললেন, “হ্যাঁ হৃদয়, এই তিলের গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ গুণ, যা আমরা হয়তো প্রায় ভুলে গেছি।”
হৃদয় অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কি দাদু, কী গুণ?”
মাহমুদ আলী বললেন, “তিলের তেলে রয়েছে অনেক উপকার। শুধু রান্নায় নয় — শরীর, চুল, ত্বক, এমনকি মনেরও স্বাস্থ্যের জন্য। বলেই তিনি তাঁর ছোট বাগান থেকে একটি চামচ তিলের তেল তুলে নিয়ে হৃদয়কে দেখালেন।
“এই তেলটি,” বললেন তিনি, “খাদ্যে ব্যবহার করলে শরীর সুস্থ থাকে, রোখে দেয় নানা রোগ। বিজ্ঞান আজ বলছে—তিলের তেলে রয়েছে ভিটামিন ই, বি–কমপ্লেক্স, খনিজ পদার্থ, ভালো ফ্যাটি অ্যাসিড”।
হৃদয় বিস্ময়ে বলল, “ওহ! তাহলে এই তেলটা সাধারণ তেলের চেয়ে বেশি ভালো?”
“হ্যা,” বললেন দাদু মহমুদ, “একটি ভাল মানের তিলের তেলের গুণ সাধারণ তেলের চেয়ে কম নয়।”
হৃদয় একটু কৌতূহলী হয়ে বলল, “তাহলে কি আমরা আজই একটু তিলের তেল দিয়ে রান্না করব, দাদু?”
মাহমুদ এগিয়ে বললেন, “ঠিক আছে — তবে আগে একটু গল্প শুনে নাও।”
গল্পের মধ্যবর্তী অংশ
দাদু বললেন—“এক গ্রামে দুই ভাই ছিল: রফিক এবং রবিউল। রফিক খুব সচেতন এবং দেখভাল করতো নিজের স্বাস্থ্য। রবিউল একটু অলস ছিল—খাদ্যে খুব বেছে খেত না, তেলের বিষয়ে ভাবতোও না।
রফিক প্রতিদিন একটু একটু করে তিলের তেল রান্নায় ব্যবহার করতো। সে অনুভব করলো—চুল একটু কম পড়ে, ত্বক একটু উজ্জ্বল হলো, শরীরের শক্তি যেন একটু বেশিই। সে খুশি হলো।
অন্যদিকে রবিউল প্রায়ই সাধারণ তেল ব্যবহার করতো, চাল-ডাল-সবজি খুব ভালো করে উপভোগ করতেন কিন্তু তেলের গুণ বিষয়ে এমন সচেতন ছিল না। একদিন রবিউল দেখা করল যে তার শরীর শীঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়ছে; চুল কিছু বেশিই পড়ছে; ত্বকও একটু স্থির নয়।
রফিক ভাইকে দেখিয়ে বলল—’তুমি কি এটা দেখেছো? কেন আমি ভালো বোধ করি আর আমি না?’ রফিক বললো—’আমি হয়তো একটু ভিন্ন খাবার নেয়া শুরু করেছি—তিলের তেল। এতে একটু যত্ন আছে।’
রবিউল ভাবলো—’হুম, তাহলে হয়তো আমি একটু বদলাব।’ এরপর সে রফিকের পরামর্শে তিলের তেল ব্যবহার শুরু করলো। কয়েক সপ্তাহ পরে দেখলো—চালিয়ে যাচ্ছে ভালো।’
ইসলামী রেফারেন্স ও শিক্ষা
এখানে আমরা মনে রাখতে পারি—হলে হলে খাবারে “ভালো” উপাদান নির্বাচন করা ইসলামে প্রশংসিত। যেমন করুণায় মর্মে: আমরা শুধু স্বাদ বা অপচয়বিহীন খাওয়া-দাওয়া নয়, বরং খেয়াল রাখি শরীর সুস্থ থাকবে, গুণমান ভালো হবে। এবং বস্তুত, শরীর ঈমানের অংশ—ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আমরা নিজের শরীরকে অপচয় করার পক্ষে নই।
আরও বলাই যায়—যদি আমরা খাদ্যে ভালো তেল ব্যবহার করি, তাহলে সুস্থতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে—ফলে আমাদের ইবাদত, কাজ, পরিবার, সব কিছুতে ভালো প্রভাব পড়ে।
গল্পের শেষ
অবশেষে, রবিউল ধীরে ধীরে তিলের তেল ব্যবহার চালিয়ে গেল এবং সে অনুভব করল—শরীর ভালো আছে, মনও ঠিক আছে। রফিকও খুশি হলো—ভাইয়ের এই পরিবর্তনে।
হৃদয় দাদুকে দেখে বলল, “দাদু, তাহলে আমি এখন থেকে আপনার তিলের তেল দিয়ে রান্না করব!”
মাহমুদ আলী হাসিমুখে বললেন, “বুঝেছো ভালোভাবে, হৃদয়। শুধু রান্নায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র সিদ্ধান্তেও যদি ভালো উপাদান বেছে নেওয়া হয়—তাহলে ফলও ভালো হয়। এবং আল্লাহ তাকে সহায় করেন।”
এইভাবেই বাগানের তিলের সাদা দানা থেকে তেলের গুণ-উপকার নিয়ে গল্পটি শেষ হলো।
✍️মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা নওগাঁ।
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন