উপন্যাস:আলতাদীঘির সোহাগীর বাতি

💐 উপন্যাস:আলতাদীঘির সোহাগীর বাতি


বগুড়া জেলার আলতা দিঘী গ্রামের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে কাঁচা রাস্তার ধুলো, কুলবাগানের গন্ধ আর বিকেলবেলার মধুর পাখির ডাক। সেই গ্রামেই বাস করতেন খলিল মিয়া নামের এক পরিশ্রমী কৃষক। তার একমাত্র কন্যা — ঈশিতা বেগম। কিন্তু কেউ তাকে নাম ধরে ডাকত না। সবার মুখে সে ছিল “সোহাগী”, কখনো আদরী। বাবার প্রাণ, মায়ের আশীর্বাদ, পাড়ার সবার প্রিয় মেয়ে সে।

সোহাগীর মামাতো ভাই সোহাগও একই গ্রামে থাকত। সোহাগ বয়সে কিছু বড় হলেও, সোহাগীর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল সে। ছোটবেলা থেকেই দু’জনের সম্পর্ক যেন ছিল এক অদ্ভুত বন্ধনে বাঁধা — হাসি, গল্প, খেলা, এমনকি কান্নাও তারা ভাগ করে নিত একসাথে।

একদিন গ্রামের স্কুলে ভর্তি হলো নতুন এক ছেলে — নাম অনুপম হোসেন। শহর থেকে তার বাবা বদলি হয়ে এসেছেন, তাই গ্রামের এই স্কুলে ভর্তি হওয়া। প্রথম দিনেই অনুপমের চোখে পড়ল সোহাগীর সরল মুখ, কপালে টিপ, আর চোখে মায়ার ছায়া।

সোহাগীও লক্ষ্য করল, নতুন ছেলেটি অন্যদের মতো দুষ্ট নয়। শান্ত, ভদ্র, আর পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। স্কুলের প্রজেক্ট, গল্পের বই বিনিময়, ক্লাসের নোট — সবকিছুতেই যেন এক মধুর সম্পর্কের আবহ তৈরি হলো।

সময় গড়িয়ে গেল। ক্লাসের পর ক্লাস পেরিয়ে গেল দু’জনের জীবন। প্রথমে সোহাগী ছিল ক্লাসে প্রথম, কিন্তু অষ্টম শ্রেণীর পর থেকে অনুপমের মেধা যেন এক জোয়ার বইয়ে দিল। নবম ও দশম শ্রেণীতে একের পর এক পরীক্ষায় প্রথম হতে লাগল অনুপম। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পুরো স্কুলে আলোড়ন তুলল সে।

সবাই প্রশংসা করল, কিন্তু একমাত্র মানুষ যিনি খুশি হতে পারলেন না — তিনি সোহাগ। তার চোখে যেন ঈর্ষার আগুন জ্বলতে শুরু করল। একসময় যাকে সে ছোটবেলা থেকে “ভাই” বলে ডাকত, সেই সোহাগীর পাশে এখন অনুপমের নাম উচ্চারিত হচ্ছে — এটা সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারল না।

🍌 হিংসার আগুন

সোহাগ যদিও নিজের হাতে তৈরি করে সোহাগীর ঘরে একটি মোবাইলের ব্যাটারি দিয়ে তৈরি বাতি বানিয়ে দিয়েছিল। এই গল্প সেই বহুবার বন্ধুদের সামনে করেছে।
অনুপমের সাফল্যে গ্রামের লোকজন যেমন মুগ্ধ, তেমনি সোহাগীর মনে তৈরি হচ্ছিল প্রতারণার পরিকল্পনা। ধীরে ধীরে সে তার কিছু শয়তান বন্ধু জোগাড় করল — যারা তার মতোই ঈর্ষাপরায়ণ, আর চক্রান্তপ্রিয়।

একদিন সুযোগ বুঝে সে অনুপমকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করল।
— “অনুপম এবার বাড়িতে দাওয়াত পেয়ে সেমাই আর চানাচুর।
অনুপম সরলভাবে রাজি হয়ে গেল। সেদিনের বিকেলে সোহাগী নিজ হাতে সেমাই ও চানাচুর খেতে দিল। মুখে ছিল হাসি, কিন্তু চোখে জ্বলছিল প্রতারণার আগুন।

এরপর থেকে সে গোপনে অনুপমের খাতায়, বইয়ে, এমনকি পরীক্ষার কাগজে খোঁচা দিতে লাগল। কখনো গোপনে তার কলম নিয়ে যেত, কখনো তার নাম নিয়ে অপবাদ ছড়াত — “অনুপম নাকি স্যারদের খুশি করে নম্বর বাড়ায়!”

যাতে বন্ধুদের মনে সহজেই সন্দেহ ঢোকে, তারা ধীরে ধীরে এই কথায় কান দিতে শুরু করল।

🖋️ প্রেম ও প্রতারণা

এইচএসসি পরীক্ষার আগে একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে অনুপম ও সোহাগী গ্রামের পুকুরপাড়ে বসে কথা বলছিল। বাতাসে হালকা ফুলের গন্ধ। অনুপম লাজুকভাবে বলল—
— “সোহাগী, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই।”
সোহাগী মুচকি হেসে উত্তর দিল— “তুমি পারবে, আমি জানি। আল্লাহ তোমার সহায় হোক।”

দু’জনের মধ্যে যে এক অদ্ভুত মায়া জন্ম নিচ্ছিল, তা অজানতেই পরিপূর্ণতা পেতে শুরু করেছিল। কিন্তু এই সম্পর্কের কথা ছিল সম্পূর্ণটাই প্রতারণা। তার উচ্চস্তরে যাওয়া সোহাগীকে যেন আরও অস্থির করে তুলল।

সোহাগী ভাবল অনুপমকে যদি ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে যায়, তবে আমি হারাব সবকিছু—, মর্যাদা, প্রতিশোধ।”

তখনই শুরু হলো তার “টোস্ট কাহিনী”।

সে নিজের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে এক ধরনের নাটক তৈরি করল — “ভালোবাসার নামে প্রতারণা”। ক্লাসে সব বন্ধুদের নিয়ে একটি মিটিং করল মিটিংয়ে সোহাগী অনুপমকে বলল যে, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে। অনুপম সোহাগীর প্রতি আগে থেকেই দুর্বল ছিল তাই সে বলেছিল অবশ্যই করবো । তারপর অনুপম কাশি দিয়ে বলল আলহামদুলিল্লাহ। তখনই শুরু হল টোস্ট কাহিনী অর্থাৎ হাফটোস্ট বিতরণ। এর কিছুদিন পর সোহাগের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়ে গেল এবং তার মামাতো ভাই সোহাগের সাথে অনুপম নামের ছেলেটির সাথে দীর্ঘদিন আর দেখা হয়নি সেই সোহাগীর সাথে। এ ঘটনা শুনে গ্রামের মানুষেরা গালগল্প শুরু করল, কেউ বলল “ছেলেটা তো ভদ্র মনে হয়েছিল!”, কেউ বলল “এই মেয়েগুলোরও দোষ কম না!”

সোহাগীর পরিকল্পনা সফল হতে শুরু করল।

💐 মেয়েটির সিদ্ধান্ত

অনুপম হোসেন তখন এক অদ্ভুত হৃদয়ের যন্ত্রণায় ভুগতে লাগল। সোহাগীর প্রতি তার ভালোবাসা ছিল নির্মল, কিন্তু চারপাশের কথাবার্তা তাকে ক্লান্ত করে তুলল।

একদিন রাতে মোমবাতির আলোয় সে কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর কাছে দোয়া করল—

> “হে আল্লাহ, যদি আমার ভালোবাসা পাপ হয়, তবে তুমি আমার জন্য এমন পথ খুলে দাও যাতে কারও সম্মান নষ্ট না হয়।”আর যদি দুজনের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তাই করে দাও।"

বিয়ের দিন অনুপম হোসেনের চোখে ছিল কষ্ট, কিন্তু ঠোঁটে ছিল নীরবতা। সোহাগীর চোখে জয়, কিন্তু অন্তরে ছিল অপরাধবোধ। তার সেই সোহাগের বাতি 🕯️ তৈরি করে দেওয়া। ২৮ শে ফেব্রুয়ারি বিয়ে ১ই মার্চে অনুপম হোসেন কে ফোন। অনুপম হোসেনের তখন সবকিছুই নাটক চক্রান্ত অভিনয় বলে মনে হলো।

💐 সময়ের প্রতিশোধ

বিয়ের কিছুদিন পরই অনুপম ঢাকায় চলে গেল। ভর্তি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে সে নিজের মেধা, পরিশ্রম আর সততার মাধ্যমে একের পর এক সাফল্য অর্জন করল।

অন্যদিকে সোহাগীর জীবনে শান্তি আসেনি। স্বামী হিসেবে সোহাগ যেমন ভালোবাসা দিতে ব্যর্থ, তেমনি ক্রমে ক্রমে তার মিথ্যা, রাগ, আর সন্দেহ তাকে গ্রাস করতে লাগল এবং সে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন আবাসিক ও বিভিন্ন পার্কে ঘুরে ফিরে মধু খাওয়াতে লিপ্ত ছিল।

এক রাতে সোহাগীর মা দেখতে পেলেন, সোহাগীর চোখে জল আর হাতে পুরনো এক খাতা — অনুপমের দেওয়া এক নোটবুক, যেখানে লেখা ছিল:
Do you love me?
Yes or no.
সোহাগী অনুপম কে এর উত্তর কখনো দেয়নি। যা বলছে তা সরাসরি।গীতাঞ্জলি কাব্যের মতোই যেন অনুপমের জীবনে এক নতুন ঝড় হয়ে গিয়েছিল। সেই একটি প্রশ্ন ডু ইউ লাভ মি ইয়েস অর নো? কিন্তু পরিবেশের কাছে গিয়েই ব্যর্থ হতে হয়েছিল বারবার আবারো সে একই প্রশ্ন কিন্তু উত্তর আসেনি সেই কথা আর সহেনা তার মনের অঙ্গনে।যখন হৃদয় যন্ত্রণা শেষ হয় না।আর যন্ত্রনা সহেনা ভুলেও যাবনা এই হৃদয় যাতনার কাছে।আর সাহানা,
সেই আজ পথিক এখনো হাটে সে পথে এখনো তাদের ঘরে আলো জ্বলে, কিন্তু তার আলোয় আর সোহাগীর মুখ দেখা যায় না।
অনুপমের মনে আজও সেই প্রশ্ন তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে ? কিন্তু এরপর কি হলো এই দীর্ঘ জীবনের পথচলায় অনুপম আজও ভুলেনি সেই জীবনের ইতিহাস গুলো।

💐 অনুপমের ফিরে আসা

দশ বছর পর একদিন অনুপম সরকারি চাকরির কারণে আলতা দিঘী এলাকায় এল। অফিসের কাজে মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দূর থেকে দেখল — পুরনো স্কুল, পুকুর, আর সেই কুলগাছটি এখনো আছে।

অফিস শেষে সে চুপিচুপি স্কুলের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ কারও কণ্ঠ শুনতে পেল—
“আপনি কি অনুপম স্যার?”

মুখ তুলে দেখল, সোহাগী। চোখে হালকা চশমা, মাথায় ওড়না পরনে কালো বোরখা, মুখে শান্ত এক মলিন হাসি।

দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ নীরবতা। শুধু বাতাসের শব্দ।

সোহাগী বলল—
— “আপনি তো অনেক দূর চলে গেছেন, আমাদের গ্রাম আপনাকে মিস করে।”
অনুপম মৃদু হেসে বলল—
— “গ্রাম নয়, কেউ কেউ মিস করেছিল।”

দু’জনের চোখে জল টলমল করল, কিন্তু কিছু বলা হলো না। কারণ কিছু সম্পর্ক ভাষার নয়, সময়ের নীরবতায় বেঁচে থাকে। সেই গোপন ভালবাসা যেন গোপনেই রয়ে যায় কিছু কিছুই ইতিহাস নাইবা প্রকাশ হলো নাইবা পূর্ণতা পেল জীবনের গল্প।

✍️ পরিণতি

কয়েক বছর পর খবর এল — সোহাগীর বাবা অসুস্থ। রক্তচাপ, মানসিক উদ্বেগ, বয়সের ভারে সে ভেঙে পড়েছে। মৃত্যুর পর অনুপমের এক বন্ধুর তাকে বলেছিল
সোহাগীর বাবা মারা গিয়েছে রে। অনুপম শুনেছিল সোহাগীর বাবার সেই বেদনা ভরা কথা আমি অনুপমের প্রতি অন্যায় করেছি। আমি যার জন্য এত চক্রান্ত করেছি।
আজ গোপনে অশ্রু ঝরাই সোহাগী আর কেঁদে কেঁদে বলে ------

💐যদি কখনো সময় হয়, তাকে বলো চুপে,
স্মৃতির পাতায় লিখে রাখি, ভালোবাসা রূপে।
নিরব চাহনিতে রেখেছি যত কথার ভাঁজ,
তারই নামের ওড়নাতে মিশে আছে সাজ।
হাসি যদি আসে মুখে, বুঝবে আছি তোমার পাসি,  
এই সোহাগী অনুপমের হবে চরণ দাসী।  
নয়নের দীপ্তি জুড়ে তারই ছবি আঁকি,  
ভালোবেসে গোপন রাতে দিই তারেই ডাকি।"

----------ইতি সোহাগী 

অনুপম তখন শহরে বড় পদে কর্মরত। কিন্তু প্রতি ঈদে সে আলতা দিঘীতে এসে গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়ে, আর সোহাগীর বাড়ির পাশে একদিন দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। আজও তার অন্তরে ভালোবাসা বিরাজ করে কিন্তু সে ভালোবাসার কথা শুধু অন্তর্যামী আল্লাহই ভাল জানেন পৃথিবীর কেউ এ ভালোবাসার মূল্য হয়তো দেবে না কখনো যেমনি দেয়নি সোহাগীর মতো মেয়েরা।


💐উপসংহার

সোহাগীর ঘরে যে বাতিটা সোহাগ বানিয়ে দিয়েছিল, সেটা আজও রাতে জ্বলে। অনুপম সেই কথাগুলো আজও মনের অঙ্গনে ভাবে সব সময় ।ভাবনাত ভাবনায় রয়ে যায়। কিন্তু এ ভাবনা কখনো বাস্তবে রূপ নেবে না কখনো। কিন্তু তার আলোয় যেন এক অদ্ভুত বিষাদের ছায়া লুকিয়ে থাকে।” কখনো সে বগুড়া থেকে চলে যায় নাটোরের কাশি কাটাই আবার কখনো কাশিয়াবাণী উপজেলায় আবার কখনো সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা শহরে সবখানেই শুধু খুঁজে ফেরে এক অপরূপ প্রকৃতির সন্ধানে যেখানে খুঁজে পায় সে আল্লাহ নামের এক প্রভুর সন্ধান। কিন্তু দুনিয়ার প্রেম তো ক্ষণস্থায়ী কিন্তু প্রভুর সাথে প্রেম কখনো শেষ হয় না । এ প্রেমের নেই কোন শেষ ।এই প্রেম দিয়ে সফল হয় যে সেই প্রকৃত প্রেমিক সেই প্রকৃত আল্লাহ ওয়ালা।
সময় চলে যায়, মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু সেই বাতি এখনো জ্বলে — ভালোবাসার, প্রতারণার, আর ভাগ্যের এক চিরন্তন সাক্ষী হয়ে। তবু অনুপম খুজে পেয়েছে মানুষের ভালোবাসা ।এই ভুবনের মালিকের ভালোবাসা অনেক উত্তম এবং কি যে এই প্রেমে মজেছে সেই প্রকৃত পথের সন্ধান পেয়েছে এজন্য আজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে সবসময় মোনাজাতেই আল্লাহর প্রেমিক হতে চাই। ব্যভিচার ,সুদ, ঘুষ থেকে সর্বদাই মুক্ত থেকে এক আলোকিত পথের সন্ধানে সবসময় ধাবিত হয় এটাই তার জীবনের আসল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। আজ কখনো কখনো সে ইয়াতিমদের পাশে দাঁড়ায় কখনো বিধবা মানুষের পাশে কখনো ছোট ছোট বাচ্চাদের পাশে দাঁড়িয়ে সে ভালবাসার প্রতিফলন ঘটায় এ ভালোবাসা স্বার্থ নেই নিজ স্বার্থ প্রেমিকের মতই সে আজও নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পেরেছে সে। আজও অনুপম মা-বাবার সেই ছোটবেলার স্মৃতিকে স্মরণ করে ভাবে অন্যায় ব্যভিচার আর জুলুমের মাধ্যমে যেখানে ধনী শ্রেণিরা সর্বদাই দরিদ্রদের উপর জুলুম নির্যাতনের যাঁতাকলে পিষ্ট করছে আর চালিয়েছে নির্যাতন ।সেই দেশকে ভালোবেসে দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো স্বপ্নে আজও সে বিভোর।

✍️শেষ কলমে, 
✍️মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
প্রভাষক:পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা নওগাঁ।
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL ISLAM.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ