উপন্যাস:দুই জীবন—এক পথচলা এক দীর্ঘ পারিবারিক জীবনকথা, রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:১৭/১১/২০২৫
উপন্যাস:দুই জীবন—এক পথচলা
এক দীর্ঘ পারিবারিক জীবনকথা
![]() |
| পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা, নওগাঁ। |
জামালপুর জেলার নিভৃত, সবুজে ভরা একটি গ্রাম—শাহবাজপুর ইউনিয়নের কৈডোলা। চারদিক জুড়ে ধানের ক্ষেত, কলাগাছ, ছাগল-মহিষ চরার মাঠ, আর পুরোনো খাল। ভোর হলে গ্রামটা যেন অন্য রূপে জেগে ওঠে। মসজিদে আজানের সুর মিলিয়ে শোনা যায় গ্রামের মুরগির ডাক, দূরে জেলে নৌকা নামানোর শব্দ, আর বাতাসে টাটকা ধানের ঘ্রাণ। এই শান্ত, সুন্দর গ্রামেই বাস করতো রাহাত আর তার স্ত্রী মেহেজাবিন।
বিয়ে হয়েছে বারো বছর। ঘরটাতে ছিল সুখের অফুরন্ত রোদ। তাদের দুই সন্তান—ছেলে আরাফাত, বয়স ছয়; আর মেয়ে আরশিয়া, মাত্র আড়াই বছর। সংসার বলতে যা বোঝায়, তা ছিল মেহেজাবিন আর রাহাতের হাসি-আনন্দে পূর্ণ। ঘরে ঢুকলেই যেন বাতাসে ভেসে আসতো শান্তির ছোঁয়া।
১. সেই আনন্দময় সংসার
বিয়ের পর থেকেই রাহাত আর মেহেজাবিন যেন ছিল একে অপরের প্রাণ। গ্রামে সবাই বলতো—
“এই দুইজনের দাম্পত্য জীবন দেখে মনে হয় সিনেমার গল্প!”
মেহেজাবিনের রান্না, তার মিষ্টি কথা, আর স্বামীর প্রতি অবিশ্বাস্য ভক্তি—সব মিলিয়ে সংসারটা ছিল যেন স্বর্গ। রাহাতও কোনোদিন তার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়নি। মসজিদের ইমাম সাহেব বলতেন—
“স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা আল্লাহর বড় নিআমত। যে বুঝে, সে-ই সুখী।”
শিশুরা বড় হতে লাগলো মায়ের কোলে-বুকে, বাবার স্নেহে। আরাফাতকে নিয়ে রাহাত মাঠে যেত, মহিষ 🐃 কে ঘাস খাওয়াত, খালে সাঁতার শিখাত। আরশিয়া তখন কাঁধে মাথা রেখে বাবার দাড়ি ধরে হাসত।
গ্রামজুড়ে সবাই জানতো—
এই পরিবারটাকে দেখে মনটা ভালো হয়ে যায়।
২. হঠাৎ নেমে এলো ঝড়
একদিন হঠাৎ মেহেজাবিন অসুস্থ হয়ে পড়ল। শুরুতে সবাই ভাবল সাধারণ জ্বর। কিন্তু ধীরে ধীরে সে হাঁটতে পারছে না, শরীর ভেঙে যাচ্ছে। তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলো। কয়েকদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা বললেন—
“এই রোগের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। রোগী যতদিন বাঁচবে, তাকে বিছানায় থাকতে হবে।”
এই কথা শুনে যেন আকাশ ভেঙে পড়লো রাহাতের মাথায়। মেহেজাবিনের চোখে পানি; সে শুধু বলল—
“তোমাকে কষ্ট দিলাম রাহাত…”
রাহাত তার হাত ধরে বলল—
“তুমি আমার জান। কষ্ট দেবার প্রশ্নই ওঠে না। তোমার সেবা করতেও আমি রাজি। আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হবে।”
কিন্তু চিকিৎসা আর দোয়া-দরুদ সত্ত্বেও মেহেজাবিনের অবস্থার উন্নতি হলো না। আরাফাত আর আরশিয়া প্রতিদিন মাকে ছুঁয়ে দেখত, ডাকত—
“মা! মা!”
মেহেজাবিন ছলছল চোখে বলত—
“আমি আছি মা, শুধু শক্তি কম। তোমরা দোয়া করো।”
৩. পরিবারের পরামর্শ
মেহেজাবিনের বাবা-মা প্রায়ই গ্রামে এসে মেয়ের পাশে থাকত। তাদের ছোট মেয়ে—শিলা, বয়স মাত্র ২১। সে নীরবে বোনকে দেখে চোখের পানি মুছতো।
একদিন সন্ধ্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি, গ্রামের কয়েকজন মান্যগণ্য ব্যক্তি, ইমাম সাহেব মিলে এক জায়গায় বসলো। সিদ্ধান্ত হলো—
দুই ছোট বাচ্চা নিয়ে রাহাতের জীবন খুব কঠিন। মেহেজাবিনের অবস্থা যেহেতু সারার মত নয়, তাই পরিবারের সবাই চায়—
রাহাত যেন নিজেরই শালী, অর্থাৎ শিলাকে বিয়ে করে। এতে করে বাচ্চাগুলোও থাকবে পরিচিত মানুষের কাছে, পরিবারের বন্ধন অটুট থাকবে।
রাহাত শুনে অবাক হয়ে গেল।
“স্ত্রী বেঁচে থাকতে কি এভাবে…?”—মনে অস্থিরতা।
ইমাম সাহেব বললেন—
“ইসলাম কোনো কঠিন অবস্থায় সহজ পথ দেখায়। তবে এর সঠিক শরীয়তী মাসলা জানতে হবে, তাড়াহুড়ো করা যাবে না। স্ত্রী বেঁচে থাকতে তার বোনকে বিয়ে করা সরাসরি নিষিদ্ধ—এটা আল্লাহর হুকুম। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘তোমরা দুই বোনকে একসাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারবে না।’ (সূরা নিসা: ২৩)”
সকলেই নীরব হয়ে গেল। আলোচনার বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
৪. মেহেজাবিনের কান্না
কিছুদিন পর মেহেজাবিন রাহাতকে ডেকে খুব আস্তে বলল—
“আমার একটা কথা আছে… আমি জানি আমার অবস্থা আর ভালো হবে না। আমি চাই আমার বাচ্চাগুলোর মা থাকুক। শিলার চেয়ে ভালো কেউ হবে না। তবে… আমি জানি এটি শরীয়তে নিষিদ্ধ। তুমি আল্লাহর হুকুম মানবে।”
রাহাত স্ত্রীর হাত চেপে ধরে কান্না চেপে বলল—
“তোমার জায়গা কেউ নিতে পারে? তুমি জীবিত আছো, আর থাকলে কেউ তোমার বোনকে বিয়ে করতে পারে না। শরীয়ত এটা মানে না। আর আমি আল্লাহর হুকুম ভাঙতে পারি না।”
মেহেজাবিন মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল—প্রানের স্বামী আমার,
আমি আমার জায়গা কাউকে যদিও না দিতে পারি। তবুও তোমার সুখের লাগি আমি সব পারি। তাই দরদ ভরা কন্ঠে একটি কাব্য লেখে তার স্বামীকে উপহার দিল।
“তাহলে আর চিন্তা নেই। তুমি শুধু বাচ্চাদের খেয়াল রাখবে।”
কবিতাটি এই -----
শরীরটা আজ বড়ই নিস্তেজ, ব্যথায় ভরে দিন,
তবুও তোমায় ভালোবাসি—আছে অটুট সেই ঋণ।
জানি তুমি ক্লান্ত হও, বোঝা নাও একা,
আমার অসুখ তোমায় কাঁদায়, চেপে রাখো দেখা।
তাই বলি হে প্রিয় স্বামী, মনটা কোরো না ক্ষুব্ধ,
হালাল পথে সুখ খুঁজে নাও—এটাই আমার প্রার্থনা শুভ।
সুন্নাহর পথেই শান্তি, সেখানে নেই কোনো অপমান,
দ্বিতীয় বিয়া হোক হালাল, থাকুক তোমার ঈমান।
আমার প্রতি দয়া রেখো, ভুলবে না স্নেহের মান,
নতুন সম্পর্কেও রেখো ন্যায়—এটাই তো ইসলামের জ্ঞান।
আল্লাহ তোমায় রাখুন সুস্থ, দান করুন হৃদয় বড়,
আমার জন্য করো দোয়া—অশ্রু যেনো না ঝরে ঝর।
তুমি সুখে থাকলে প্রিয়, সেজন্য করি কুরবান,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দিলাম এ পরামর্শ জান।
ইতি তোমার প্রিয়তমা স্ত্রী -মেহজাবিন।
রাহাত মনে মনে আল্লাহর কাছে বলল—
“ইয়া রব! আমাকে হালাল পথেই রাখুন। আমার স্ত্রীর সেবা করা যেন আমার জন্য জান্নাতের রাস্তা হয়।”
৫. গ্রামের সৌন্দর্য আর বেদনার ছায়া
গ্রাম আগের মতোই শান্ত। বিকেল হলে ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলে, খালে ছিপ ফেলে মাছ ধরে। মেঘলা দিনে বাড়ির সামনে দাওয়ায় বসে চা খেলে মনটা খুব ভালো হয়ে যায়। কিন্তু রাহাতের জন্য সেই সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে বেদনার একটা ছাপ।
প্রতিদিন সকালে আজানের পর উঠেই সে প্রথমে স্ত্রীকে পানি খাওয়ায়, ওষুধ দেয়, তারপর বাচ্চাদের প্রস্তুত করে স্কুল-মাদরাসায় পাঠায়। কখনো শিলা এসে সাহায্য করে। কিন্তু রাহাত কখনো তাকে বাড়ির ভেতরে একা রাখে না। “হিফাজতের হুকুম”—এই নীতি সে দৃঢ়ভাবে মেনে চলে।
গ্রামে মানুষের কথা তো চলতেই থাকে। কেউ বলে—
“মানুষটা খুব কষ্টে আছে।”
আবার কেউ বলে—
“বিয়ে করলেই ভালো হতো।”
কিন্তু রাহাত কোনো কথায় কান দেয় না। সে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়।
৬. শিলার মনে চলা ঝড়
শিলা যখন দেখে তার দুলাভাই বোনকে সারাদিন সেবা করছে, তখন সে চুপ করে চোখের পানি মুছতে থাকে। তার মনে হয়—
“দুলাভাই একটা ফেরেশতা! আমার নিজের বোন কি ভাগ্য নিয়ে এমন মানুষ পেয়েছিল!”
কিন্তু মাঝে মাঝে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বলে—
“বাবা-মা হয়ে বাচ্চাদের বড় করবে কে? রাহাত একা পারবে না। তুই বিয়ে করলে আল্লাহর রহমত হবে।”
শিলা তখন মাথা নিচু করে।
“কিন্তু আপু তো বেঁচে আছে…”—একটা দ্বন্দ্ব, একটা অশান্তি তার হৃদয়ে।
সে একদিন ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলো—
“হুজুর, আমি কি দুলাভাইকে বিয়ে করতে পারি?”
ইমাম সাহেব নরম গলায় বললেন—
“বাবা, বোন বেঁচে থাকতে বোনের স্বামীকে বিয়ে করা হারাম। এটা আল্লাহর হুকুম। ভালোটা চাইলেও হুকুম ভাঙা যায় না। বরং তুমি আপুর সেবা করো, এটাই হবে বড় সওয়াব।”
শিলা সেদিন বাড়ি ফিরে খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার মন পরিষ্কার হয়ে যায়। সে সিদ্ধান্ত নেয়—
“আমি আপুর শেষ জীবনটাতে তাকে সেবা করবো। এটাই আমার কর্তব্য।”
৭. সময়ের স্রোতে
মাসের পর মাস পেরিয়ে যায়। রাহাত তার স্ত্রীকে আরও বেশি ভালোবাসা দিয়ে যত্ন করে। মেহেজাবিন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়। সে জানে—তার স্বামী তাকে ছেড়ে যাবে না, আল্লাহর হুকুম অমান্য করবে না, আর তার বাচ্চাগুলোর দেখভাল করবে।
একদিন সন্ধ্যায় মেহেজাবিন রাহাতকে বলল—
“তুমি আমার জন্য এত কিছু করছো… আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমার কথা মনে রাখবে—
যদি আমি কখনো না থাকি, তবে হালাল পথে বিয়ে করবে, বাচ্চাদের মা দেবে। তবে আমার বোনকে নয়।”
এই কথা শুনে রাহাতের চোখে পানি চলে আসে, কিন্তু সে কিছু বলতে পারে না।
৮. গ্রামের মানুষের দোয়া
মেহেজাবিনের অবস্থা অল্প করে আরো খারাপ হতে থাকে। তার শরীর শুকিয়ে যায়। শিলা প্রতিদিন জান্নাতের বাসনা নিয়ে বোনকে সেবা করে। রাহাতের মা, শাশুড়ি সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করে।
গ্রামের মানুষও সাহায্য করতে থাকে। কেউ দোয়া করে, কেউ কোরআন পড়ে, কেউ খাবার নিয়ে আসে। এলাকায় এভাবে সম্মিলিত দোয়া-কামনা খুব কম দেখা যায়।
সবাই বলত—
“এই মহিলা নিশ্চয়ই জান্নাতি। স্বামী-সংসারকে এত ভালোবেসেছে!”
৯. শেষ বিকেলের দৃশ্য
একদিন বিকেলে হঠাৎ মেহেজাবিন রাহাতকে ডেকে বলল—
“আজ সূর্যটা অনেক সুন্দর লাগছে… দেখো।”
রাহাত জানালা খুলে দিলো। দূরে ধানের মাঠের ওপরে কমলা আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাসে শীতের ছোঁয়া। পাখিরা বাসায় ফিরছে।
মেহেজাবিন বলল—
“রাহাত… আমি খুব খুশি যে তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাওনি। আমি যদি চলে যাই, বাচ্চাদের মানুষ করে দিও। শিলাকে বলো—আমি যেন তার জন্য দোয়া করি।”
রাহাত কাঁদতে কাঁদতে বলল—
“তুমি যাবে কোথায়? তুমি তো আমার জীবনের আলো!”
মেহেজাবিন দুর্বল হাসি দিল।
“একদিন সবাইকেই যেতে হয়। তবে তুমি সত্যের পথেই থেকো। হালাল-হারাম চিনবে।”
সেদিন সন্ধ্যায় মেহেজাবিন গভীর ঘুমে চলে গেল… শান্ত, নিস্তব্ধ, আল্লাহর কাছে।
গ্রামজুড়ে কান্নার ঢেউ ওঠে। সবাই বলে—
“একজন সৎ স্ত্রী চলে গেল।”
১০. নতুন পথ
মেহেজাবিন চলে যাওয়ার পর শিলা বাচ্চাদের মা-সুলভভাবে যত্ন নিতে থাকে। তবু শরীয়ত মানা হয়—বিয়ের কোনো প্রসঙ্গ ওঠে না। শিলা নিজেও জানে—এটাই হালাল পথ।
কিছুদিন পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা রাহাতকে বলল—
“তোমাকে আবার বিবাহ করতে হবে। হালাল পথে জীবন চালাতে হবে। বাচ্চাদেরও একজন মা দরকার।”
রাহাত এবার প্রস্তুত ছিল।
মেহেজাবিনের কথাও ছিল—“হালাল পথে বিয়ে করবে।”
অতঃপর পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়—শিলার বাইরে, অন্য একটি সৎ পরিবার থেকে একটি দ্বীনদার মেয়েকে রাহাতের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হবে।
শিলাও খুশি হয়। সে জানে বোনের স্বামীর গৃহে তার আর কোনো হালাল সম্পর্ক তৈরি হতে পারে না। তার মন শান্ত।
“আমি আপুর বাচ্চাদের মা-খালা দুটোই থাকবো”—সে মনে মনে বলে।
১১. গ্রাম আবার আগের মতো
সময় ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক করে। গ্রামে আবার নতুন রঙ আসে। রাহাত নতুন স্ত্রীকে নিয়ে শিশুদের মানুষ করতে থাকে। শিলাও মাঝে মাঝে এসে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করে, স্কুলে নিয়ে যায়।
মেহেজাবিনের স্মৃতি গ্রামে আজও আছে—
তার শালীনতা, দায়িত্ববোধ, আর আল্লাহর উপর ভরসা।
সবাই বলে—
“তার জীবন আমাদের শেখায়—হালাল-হারাম মানলে সুখ আসে, কষ্টের মধ্যেও শান্তি আসে।”
রাহাত প্রায়ই সন্ধ্যায় ধানের মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে বলে—
“তোমার শিক্ষা আমি কখনো ভুলব না।”
এভাবেই তাদের জীবন চলতে থাকে আল্লাহর রহমতে, শান্তিতে, হালাল পথে।
🖋️মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা নওগাঁ।
তারিখ:১৭/১১/২০২৫
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন