মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা, সীমান্ত পাহারা দেওয়ার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও ফজিলত।, রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:১০/১১/২০২৫

 ✓মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা, সীমান্ত পাহারা দেওয়ার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও ফজিলত।




ভূমিকা


মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী। সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন এক মহান দায়িত্ব, তেমনি মানবতারও মৌলিক দাবি। একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নির্ভর করে তার সীমানা রক্ষার উপর। সীমান্ত পাহারা দেওয়া মানে শুধু মাটির রেখা রক্ষা করা নয়; বরং এর মধ্যে নিহিত থাকে একটি জাতির সম্মান, স্বাধীনতা, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং জনগণের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা।


ইসলাম ধর্ম এই নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষার কাজকে শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বলেই মনে করে না; বরং একে একটি ইবাদত ও মহান সওয়াবের কাজ হিসেবেও ঘোষণা করেছে।


✓সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব


সীমান্ত হলো একটি রাষ্ট্রের মর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক। সীমান্ত অরক্ষিত থাকলে দেশ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এক দেশের সীমান্ত অন্য দেশের সাথে যুক্ত; তাই যদি সীমান্ত দুর্বল হয়, তাহলে সহজেই শত্রুপক্ষ অনুপ্রবেশ করতে পারে, জাতির নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, এবং নাগরিকদের জান-মালের ক্ষতি ঘটে।


বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিকভাবে জটিল সীমান্তবিশিষ্ট দেশে এই দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)—দিনরাত পাহারা দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যাচ্ছে। তাদের নিরলস ত্যাগ ও সাহসী ভূমিকা না থাকলে, দেশ শত্রুর অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের শিকার হতে পারত।


✓ইসলামী দৃষ্টিতে সীমান্ত রক্ষার প্রয়োজনীয়তা


ইসলাম নিরাপত্তা ও শান্তিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন—

 "উহারা সন্ধির জন্য আগ্রহী হইলে তুমি সন্ধির জন্য আগ্রহী হইবে এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভর করিবে; তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

(সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৬১)


কিন্তু যখন কোনো শত্রু ইসলাম বা মুসলিম সমাজের উপর আক্রমণ করে, তখন আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নির্দেশ দেন নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রতিরোধ করতে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেন-


 "আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্য থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপরও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না। 

✓সূরা আনফাল -৬০


এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়—সীমান্ত পাহারা দেওয়া শুধু সামরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর নির্দেশ পালন করা একটি ইবাদত। সীমান্তে অবস্থান করে শত্রুর আগমন প্রতিরোধ করা হচ্ছে সেই “প্রস্তুতি”রই বাস্তব রূপ।


‎✓হাদীসে সীমান্ত পাহারার (রিবাত) গুরুত্ব ও সওয়াব সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায়।


✓সাহ্‌ল ইব্‌নু সা’দ সায়ী’দী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ্‌র পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চিবুক পরিমিত জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম। আল্লাহ্‌র পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’

✓সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৮৯২


অর্থাৎ, সীমান্ত পাহারা দেওয়া এমন এক ইবাদত, যার মর্যাদা পৃথিবীর সমস্ত ধন-সম্পদ ও রাজত্ব থেকেও শ্রেষ্ঠ।


২. অন্য হাদীসে এসেছে—


✓সালমানুল খায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাস্তায় একদিন ও এক রাত সীমান্ত পাহারায় কাটায়, তার জন্য এক মাস রোযা রাখার ও (রাত জেগে) ইবাদাতের সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি পাহারার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জন্যও অনুরূপ সওয়াব বরাদ্দ হবে। আর তাকে (জান্নাত হতে) রিযিক বরাদ্দ দেয়া হবে, আর সে সমস্ত ফিতনা (বিপদ ও সমস্যা) হতে রক্ষিত থাকবে।

✓সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩১৬৭


অর্থাৎ সীমান্ত পাহারায় নিযুক্ত ব্যক্তি মৃত্যুর পরও জান্নাতের সুখ ভোগ করবে, কারণ সে আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করেছে।


✓জান-মাল ও সম্মান রক্ষার ইসলামী দৃষ্টিকোণ


ইসলাম মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজে বলেছেন—

> “তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সম্মান একে অপরের জন্য হারাম (অস্পৃশ্য), যেমন এই দিনটি (আরাফা), এই মাসটি (যিলহজ) এবং এই শহরটি (মক্কা) পবিত্র।”

পূর্ন হাদীস নিচে দেয়া হল -

✓ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশে একটি খুৎবাহ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল ! আজকের এ দিনটি কোন্ দিন? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ শহরটি কোন শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ মাসটি কোন মাস? তাঁরা বললেন, সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইজ্জত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত , যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি , তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাস। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ ! আমি কি (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি ! হে আল্লাহ ! আমি কি পৌঁছিয়েছি? ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ , নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তাঁর উম্মতের জন্য অসীয়ত। [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ ] উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। 

(আঃপ্রঃ ১৬১৯, ইঃফাঃ ১৬২৭)

✓সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৭৩৯


অতএব, যারা সীমান্তে পাহারা দিয়ে জনগণের জান-মাল ও সম্মান রক্ষা করে, তারা আসলে এই নববাণীর বাস্তব অনুশীলন করছে।


✓মানবিক ও সামাজিক গুরুত্ব


সীমান্ত রক্ষাকারীরা শুধু শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করে না, বরং সমাজের শান্তি রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে—


✓চোরাচালান, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ রোধ হয়,

✓অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ থাকে,

✓দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে,

✓জনগণ নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারে।

✓অতএব, সীমান্তরক্ষীদের কাজ কেবল সামরিক নয়; এটি একটি সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বও বটে।


✓সীমান্ত পাহারায় আত্মত্যাগ ও শহীদের মর্যাদা


যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে শহীদ হন, তার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন—


✓মিকদাব ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহ্ তা’আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তাঁর প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাঁকে ক্ষমা করা হয়, তাঁকে তাঁর জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তাঁর মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তাঁর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তরজন জান্নাতী হূরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তাঁর সুপারিশ ক্ববূল করা হবে।

✓সহিহ তিরমিজি, হাদীস: ১৬৬৩


অতএব, যারা দেশের সীমান্তে রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, তারা আল্লাহর কাছে শহীদের মর্যাদা অর্জন করেন—এটি তাদের জন্য এক অমর সম্মান।


✓আজকের বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রাসঙ্গিকতা


বর্তমান যুগে সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ, মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, ও অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্যের মতো অপরাধগুলো প্রায়ই সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে।


বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বহু দেশ সীমান্তের অনিরাপত্তার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু রাষ্ট্রের নয়, এটি জাতীয় টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।


ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার ইতিহাসে দেখা যায়—খলিফা হারুনুর রশিদ, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) প্রমুখ শাসকরা সীমান্ত রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। তাঁরা সীমান্তে প্রহরীদের জন্য বিশেষ ভাতা, দোয়া ও সম্মান নিশ্চিত করতেন।


✓সীমান্ত রক্ষায় জনগণের দায়িত্ব


✓সীমান্ত রক্ষা শুধু সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নয়। জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে—

✓সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান রোধে সচেতন থাকা,

✓আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য সহায়তা করা,

✓দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা,

✓সমাজে দেশপ্রেম জাগ্রত রাখা।

✓রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

✓ “তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষক এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে দায়বদ্ধ।”

(সহিহ বুখারি, হাদীস: ৮৯৩)


অতএব, দেশের সীমান্ত ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণই ইসলামিক দৃষ্টিতে এক মহান দায়িত্ব।


✓সীমান্ত রক্ষাকারীদের জন্য দোয়া ও সম্মান


আমাদের উচিত—যারা সীমান্ত পাহারা দিয়ে দিনরাত জাতির জন্য জীবন বাজি রাখছেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত দোয়া করা। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁদের নিরাপদ রাখেন, তাঁদের কাজকে কবুল করেন এবং তাঁদের পরিশ্রমের বিনিময়ে জান্নাত দান করেন।


ইসলামী ইতিহাসে সীমান্ত রক্ষাকারীদের সর্বদা “মুরাবিত” বলা হয়েছে, আর “রিবাত” অর্থ পাহারা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

>হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ধর, দৃঢ়তা অবলম্বন কর ও লাগিয়া থাক; আর আল্লাহকে ভয় কর, হয়ত তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হইবে।'

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ২০০)


এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সীমান্ত রক্ষীদের ব্যাপারে বিভিন্ন কথা বলা হয়েছে।

ইমাম আবূ দাউদ (র.) ফাযালাহ ইবনে ওবায়েদ এর রেওয়ায়েতক্রমে এ মর্মে এক রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন যে, রাসূলে কারীম ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক মৃত বক্তির আমল তার মৃত্যুর সাথে সাথে শেষ হয়ে যায় শুধুমাত্র রাবেত [ইসলামি সীমান্তরক্ষী ছাড়া। অর্থাৎ তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। এবং সে কবরে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী থেকে নিরাপদ থাকবে।

এসব রেওয়ায়েতের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, 'রেবাত' বা সীমান্ত রক্ষার কাজটি সমস্ত সদকায়ে জারিয়া অপেক্ষাও উত্তম। কারণ সদকায়ে জারিয়ার ছওয়াব ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তার সদকাকৃত বাড়ি-ঘর, জমি-জমা, রচিত গ্রন্থরাজি কিংবা ওয়াকফকৃত জিনিসের দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে। যখন উপকারিতা বন্ধ হয়ে যায় 

ছওয়াবও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর পথে সীমান্ত প্রহরার ছওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবে না। কারণ সমস্ত মুসলমানদের সৎকর্মে নিয়োজিত থাকা তখনই সম্ভব, যখন তারা শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকবে। ফলে একজন সীমান্তরক্ষীর এ কাজ সমস্ত মুসলমানদের সৎকাজের কারণ হয়। সে কারণে কিয়ামত পর্যন্ত তার রেবাত কর্মের ছওয়াব অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়াও সে যত নেক কাজ দুনিয়ায় করতো, সেগুলোর ছওয়াবও আমল করা ছাড়াই সর্বদা জারি থাকবে।

✓তাফসিরে আনওয়ারুল কুরআন- ১ম খন্ড - পৃষ্ঠা ৫৭৮

এই আয়াতে ‘রাবিতু’ শব্দটি সীমান্তে প্রস্তুত থাকার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যায়—সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় থাকা নিজেই এক ইবাদত।



উপসংহার


সীমান্ত পাহারা দেওয়া মানুষের জান-মাল, ইজ্জত ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষার এক মহৎ দায়িত্ব। ইসলাম এই কাজকে কেবল রাষ্ট্রীয় কর্তব্য নয়, বরং আল্লাহর পথে রিবাত বা জিহাদ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই দায়িত্বে যারা নিয়োজিত—তারা জাতির প্রহরী, শান্তির দূত এবং আল্লাহর পথে মুজাহিদ।


আমাদের উচিত তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, তাঁদের মর্যাদা বোঝা এবং তাঁদের জন্য দোয়া করা। একদিন একরাত সীমান্ত পাহারায় থাকা যেমন পৃথিবীর সব সম্পদের চেয়ে উত্তম—তেমনি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য উপায়।


✓শেষ কথা:

যে জাতি তার সীমান্ত রক্ষা করে, সে জাতি স্বাধীন থাকে; আর যে জাতি সীমান্ত উপেক্ষা করে, সে জাতি শৃঙ্খলা ও মর্যাদা হারায়। তাই সীমান্ত পাহারা দেওয়া শুধু কর্তব্য নয়—এটি ঈমান, দেশপ্রেম ও মানবতার এক পবিত্র দায়িত্ব।


তাই গেয়ে উঠি মনের আনন্দে -আমার কবিতায়


যে জাগে প্রহরী হয়ে সীমান্তের প্রাচীরে,

তার জাতি বাঁচে গৌরবে ইতিহাসের নীড়ে।

রক্তে লেখা স্বাধীনতা প্রজন্মে দেয় গান,

মাটির ঘ্রাণে মিশে থাকে বীরের আত্মবাণ।


যে ভুলে যায় প্রহরা, নিদ্রিত রাতের ছায়ে,

তার পতাকা কাঁদে নিঃশব্দ অবহেলায়ে।

দাসত্বের ধুলায় ম্লান হয় তার মান,

জাগো প্রহরী জাতি, রক্ষা করো সম্মান।


✍️মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম

🖋️প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা মান্দা, নওগাঁ।

💐সাবেক আরবি প্রভাষক বলদীআটা মাদ্রাসা ধনবাড়ী টাঙ্গাইল।

তারিখ:১০/১১/২০২৫

https://banglarkhota.com/2025/11/10/6540/

বাংলার কথা অনলাইন পত্রিকায় এই লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোথাও এর ডুপ্লিকেট কপি পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ