শিরোনাম: হাসি-কান্নার সেই গ্রাম, রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺 তারিখ:১৭/১০/২০২৫

শিরোনাম: হাসি-কান্নার সেই গ্রাম


নাটোর জেলার পাশের একটি ছোট্ট গ্রাম—নাম তার বনপাড়া। গ্রামটা ছোট হলেও মানুষগুলো বড় হৃদয়ের, একেকজন যেন একেকটা গল্পের চরিত্র। এই গ্রামেই থাকেন সলিমুদ্দিন চাচা, যাকে সবাই বলেন “মাতাপর মানুষ”। কবে কী বলেন, কাকে কী বলেন—তা নিয়ে সবার হাসির উৎস।

সলিমুদ্দিন চাচার ছেলে জহুর মণ্ডল, একেবারে খাঁটি কৃষক। দিনমান মাঠে হালচাষ আর রাত হলে উঠোনে বসে একবাটি মুড়ি আর আলতা পানের সুখ। তার ছেলেই নজর আলী। সে আবার কৃষক হলেও পেছনে সুদের কারবারে ভালোই সুনাম কুড়িয়েছে—লোকেরা তাকে ঠাট্টা করে “নজর আলী সুদী” বলেও ডাকে।

নজর আলীর ছেলে চোরামিন, একটু তুতলা। গ্রামের হাসির রাজা যেন সে-ই! একদিন তার নানি অসুস্থ, ডাক্তার বললেন ভিটামিন খাওয়াতে হবে। তো চোরামিন গেল দোকানে, গিয়ে বলল,
“একডা বাইটামিন দেন!”
লোকেরা তো হেসে গড়াগড়ি!
সখিনা ভাবি চিমটি কেটে বলল, “রে ছ্যাড়া, বাইটামিন না—ভি...ভি...ভি-টা-মিন!”
চোরামিন গম্ভীর মুখে বলে, “ভি হোক বা বি হোক, একডা দিয়া দাও, কাজ তো একটাই!”

গ্রামের শেষপ্রান্তে থাকত জোটকো ফকির। তার মেয়ে শাহিনুর—সেই যে পাঁচবার বিয়ে হলো, একটাও টিকল না। এখন কেউ তাকে দেখলেই ফিসফিস করে, “বিয়া সাকিন্ড হ্যান্ড হইছে!”
অন্যদিকে ভেঙ্গু ফকিরের মেয়েটা বাপের বাড়িতে ফিরে এসেছে স্বামীর সংসারে সুখ না পেয়ে। এমনই দুঃখ-সুখের দোলাচলে চলতে থাকে তাদের জীবন।
গ্রামে ছিল ছাগল চরানো, মহিষ পালা, হাঁস-মুরগি লালন—একেকটা পরিবার যেন একেকটা খামার। শিশুরা বিকেলে দৌড়াদৌড়ি করে, কেউ খালের পানিতে ঝাঁপ দেয়, কেউ বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকোচুরি খেলে।

রাত হলে একেকটা গল্প—
—“শুনছো, কাল রাতে ভূতের হুকা হুয়া শুনছি!”
—“আর বইলো না, শিয়াল কি ডাকে রে ভাই!”
—“মশা তো আজকাল গান গাইতেছে—গুন গুন গুন!”

শিশুদের কেউ বিছানা ভিজিয়ে দিলে, সকালেই উঠোনে ‘গল্পের বন্যা’। এই হাসি, এই কান্না—এই নিয়েই চলছিল গ্রাম শান্তিপুর।

এই গ্রামেই ছিল জীবন, ছিল গল্প, ছিল বেঁচে থাকার সরল আনন্দ। অভাব ছিল, কিন্তু অপূর্ণতা ছিল না। কারণ ছিল মায়া, ছিল মানবতা, আর ছিল চিরচেনা বাংলার সেই অনন্য গ্রামীণ ছোঁয়া।

✍️রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
প্রভাষক হাদীস পরানপুর কামিল মাদ্রাসা
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ