গল্পের নাম: “তিন কুকুরের মেজবানি”
গল্পের নাম: “তিন কুকুরের মেজবানি”
গ্রামের পরিচিতি:
সুন্দরপুর একটি শান্তিপূর্ণ গ্রাম। গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ছোট একটি খাল, আর খালের পাশে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী একটি বটগাছ। বটগাছের ছায়ায় প্রতিদিন বিকেলে বসে গ্রামের বুড়োরা গল্প করে, আর শিশুরা খেলে। এ গ্রামের সবচেয়ে বড় মানুষ ছিলেন অধম সাহেব। নামটা শুনে কেউ ভুল বোঝার প্রয়োজন নেই—তিনি ছিলেন পরোপকারী, শিক্ষিত আর অদ্ভুত এক রকমের মানুষ। তবে তাঁর সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়টি ছিল, তিনি তিনটি কুকুর পুষতেন। কেউ নাম রাখেনি ওদের, তবে সবাই বলত—তারা কচুখেতের কুকুর। কচুক্ষেতের পাশে রাস্তার ধারে দোকানের পাশে তারা সর্বদাই বসে থাকতো।
ওরা ছিল সবসময় একসাথে, তিনজন যেন এক আত্মা। সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তারা বের হতো মজার খাবারের খোঁজে। মেজবানি মানে তো উৎসব! আর উৎসব মানেই খাওয়া-দাওয়া! তাই কুকুর তিনটি এক সকালে রাস্তার মোড়ে বসে ঠিক করলো, আজ তারা মেজবানি খাবারের খোঁজে বের হবে।
ঘ্রাণের খোঁজে প্রথম কুকুর:
হঠাৎ একজন বলল, “আমার নাকে তো ভেসে আসছে মেজবানি মাংসের ঘ্রাণ! চল, চল সবাই!”
কিন্তু বাকি দুই কুকুর বলল, “তুই যা আগে। দেখি কী হয়!”
সে গেল। বাড়ির দরজার কাছে পৌঁছাতেই মানুষজন তাকে দেখে লাঠি নিয়ে তেড়ে এলো। এক ঘা, দুই ঘা, তিন ঘা—কুকুরটি কোনমতে পালিয়ে এল।
দু’জন জিজ্ঞেস করল, “কি খেলি রে?”
সে মাথা নাড়ে, “বেশ বেশ…”
দ্বিতীয় কুকুরের অভিজ্ঞতা:
এবার সাহস করে দ্বিতীয় কুকুর গেল। সে ভাবল, “লাঠি একটু খাইলেও হয়ত মাংসের হাড় জুটে যাবে!”
কিন্তু এবার আয়োজকরা বুঝি আগেই রেগে ছিল। তারা এক বালতি গরম পানি তার গায়ে ঢেলে দিল। কুকুরটি চিৎকার করে দৌড়ে পালাল।
ফিরে এসে বলল, “খেলাম… গরম গরম!”
তৃতীয় কুকুরের কপাল:
এবার তৃতীয়জন বলল, “আমিও যাচ্ছি। যা হয় হবে।”
সে গেল, আর ওদের দুর্ভাগ্য তারও অপেক্ষায় ছিল। লোকেরা ধরে এনে তাকে এমন মারধর করলো—লাথি, চড়, ধাক্কা—যেন সে কোনও ডাকাত! শেষে, এক লোক তার গায়ে লাথি মেরে বলে উঠল, “খাবার খাইতে এসেছ? আবার শুতে চাস?”
শেষমেশ কুকুরটা গড়াগড়ি খেতে খেতে রাস্তার পাশে এক নালায় এসে পড়ল। ফিরে এসে দুই বন্ধুকে বলল, “হ্যাঁরে ভাই, আমাকে খাবার তো দিলই না, উলটো শুইয়ে দিল!”
উপসংহার:
গ্রামের সবাই এ দৃশ্য দেখেছে। বটগাছের নিচে বসে একজন বৃদ্ধ বলেন,
“দেখো, কুকুরগুলো যেমন লোভে পড়ে মার খেল, তেমনি মানুষেরও এই অবস্থা হয়। লোভে পড়ে যদি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই, তবে শেষমেশ মার খেতেই হয়। আবার কাউকে দেখে যদি নিজের বুদ্ধি বন্ধ করে ফেলি, তবে ধরা খাওয়াটা নিশ্চিত।”
উপদেশ:
লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি আরও সত্য হলো—অন্যকে না বুঝে অন্ধভাবে অনুসরণ করা বোকামি। নিজের বিবেক আর অভিজ্ঞতা দিয়ে চলতে শিখো। আর হ্যাঁ, যারা নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, তারাই বুদ্ধিমান।
শেষ কথা:
এই গল্প শুধু তিনটি কুকুরের না, এটি আমাদের সবার জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। জীবনটা যদি ভালোভাবে বুঝে চলা যায়, তবে হয়ত ধোলাইয়ের বদলে সত্যিকারের মেজবানি আমরা পেয়ে যেতাম।
শেষে এক ছড়া:
> লোভের ঘ্রাণে যেই যায় আগে,
পায় সে শেষে ব্যথার সাগরে।
নিজের চিন্তা, বুঝে পথ চলো,
না হলে জীবন—হবে শুধু ধুলো।
🖋️রচনায় : মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺
🍌আরবি প্রভাষক বলদীআটা ফাজিল মাদ্রাসা ধনবাড়ী টাঙ্গাইল জেলা।
তারিখ:১৮/০৭/২০২৫
প্রথম প্রকাশ:
www.banglarkhota.com
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam.



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন