বাদশা ফরিদ উদ্দিন এর ন্যায্য মজুরি, রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺
ছোট গল্প:বাদশাহ ফরিদ উদ্দিন এর ন্যায্য মজুরি
প্রাচীন কালের কথা। তখনকার দিনে বাদশাহরা শুধু ক্ষমতার আসনে বসতেন না, বরং অনেকেই ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেন। তেমনই এক শাসক ছিলেন বাদশাহ ফরিদ উদ্দিন। তিনি সর্বদা প্রজাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিতেন, ন্যায় ও সততার শিক্ষা দিতেন।
একদিন বাদশাহ সবার অগোচরে প্রজাদের অবস্থা জানতে ছদ্মবেশে বের হলেন। রাজপথে হাঁটতে হাঁটতে তিনি দেখলেন, কয়েকজন মজুর মাঠে কঠোর পরিশ্রম করছে। তপ্ত রোদে ঘামে ভিজে তারা মাটি কেটে জমি সমান করছে। বাদশাহ এগিয়ে গিয়ে তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করলেন—
— "ভাই, তোমরা এতো কষ্ট করছো, এর বিনিময়ে কত মজুরি পাও?"
মজুরটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
— "হুজুর, আমরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাটলেও মজুরি পাই মাত্র কয়েকটি মুদ্রা। তাতে সংসার চলে না, পেটের ভাতই জোটে না ঠিকমতো। কিন্তু আমরা অসহায়, তাই কাজ না করলে উপায়ও নেই।"
বাদশাহর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তিনি ভাবলেন— যে মজুর ঘাম ঝরিয়ে সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে, তার ন্যায্য প্রাপ্য যদি না দেওয়া হয়, তবে আল্লাহর কাছে আমার জবাব কী হবে?
পরদিন বাদশাহ রাজদরবারে বৈঠক ডাকলেন। জমিদার ও ধনী ব্যবসায়ীদের সামনে তিনি সেই মজুরদের ঘটনা শুনালেন। বললেন—
— "একজন শ্রমিকের ঘামের মূল্য তার রক্তের সমান। যে শ্রম দিয়ে তোমাদের ধন-সম্পদ আসে, তার ন্যায্য মজুরি দেওয়া ফরজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— ‘মজুরের ঘাম শুকানোর আগে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (সহিহ হাদিস)।"
রাজ্যের আইন পরিবর্তন করা হলো। নির্ধারিত হলো— প্রতিটি শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, অন্যথায় কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ধনী-গরিব সবাই বুঝল, বাদশাহ ফরিদ উদ্দিন শুধু ক্ষমতার আসনে বসেননি, তিনি আসলেই ছিলেন জনগণের অভিভাবক।
সেই থেকে প্রজারা আনন্দে কাজ করত, কারণ তারা জানত— তাদের ঘামের দাম আর কেউ মেরে খেতে পারবে না। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো, আর বাদশাহ ফরিদ উদ্দিন হয়ে উঠলেন প্রজাদের হৃদয়ের প্রকৃত বাদশাহ।
রচনায় :মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺
প্রভাষক আরবি বলদিআটা ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসা ধনবাড়ী টাঙ্গাইল জেলা।
Copyright ©️ All rights reserved by author maulana MD FARIDUL Islam



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন