সন্তানের উপযুক্ত বয়সে বিবাহের উপকারিতা মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺
সন্তানের উপযুক্ত বয়সে বিবাহের উপকারিতা
মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 🌺
১।সন্তানকে উপযুক্ত বয়সে বিবাহ না দিলে সন্তান জেনা করে এমতাবস্থায় পিতা মাতার উপর যিনার গুনাহ পতিত হবে কিনা?
জবাব:
আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম। সন্তানকে উপযুক্ত বয়সে বিবাহ না দিলে তারা বিপথে যেতে পারে, এটি একটি বাস্তবসম্মত আশঙ্কা। এই বিষয়ে সরাসরি এমন কোনো হাদীস আছে কিনা যে, পিতা-মাতার উপর যিনার গুনাহ পতিত হয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
তবে, কিছু বিষয় উল্লেখ করা যায়:
১. অভিভাবকদের দায়িত্ব: ইসলামে পিতা-মাতার উপর সন্তানের সঠিক প্রতিপালনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তাদের দ্বীনি ও দুনিয়াবী সকল প্রয়োজন পূরণ করা অন্তর্ভুক্ত। উপযুক্ত বয়সে বিবাহ দেওয়াও এর অংশ।
২. গুনাহের ভয়াবহতা: যিনা একটি মহাপাপ। যে কোনো পাপে সহায়তা করা বা তার কারণ হওয়াও গুনাহের কাজ। যদি পিতা-মাতা সক্ষম থাকা সত্ত্বেও সন্তানকে বিবাহ না দেন এবং এর ফলে সন্তান যিনায় লিপ্ত হয়, তাহলে তারা পরোক্ষভাবে এর জন্য দায়ী হতে পারেন।
৩. সাধারণ নীতি: ইসলামে প্রতিটি কাজের পেছনে নিয়তের গুরুত্ব আছে। পিতা-মাতা যদি সন্তানকে সঠিকভাবে দ্বীনি শিক্ষা দেন এবং বিবাহের জন্য উৎসাহিত করেন কিন্তু সন্তান নিজে বিপথে যায়, সেক্ষেত্রে দায়ভার সন্তানের উপর বর্তায়। তবে যদি পিতা-মাতার অবহেলা বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিবাহে বিলম্ব করার কারণে সন্তান বিপথে যায়, তাহলে তাদেরও জবাবদিহি করতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপ:
সরাসরি এমন কোনো হাদীস না থাকলেও, পিতা-মাতার উপর সন্তানের দ্বীনি ও চারিত্রিক গঠনের দায়িত্ব থাকার কারণে, তারা যদি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সন্তানকে উপযুক্ত বয়সে বিবাহ না দেন এবং এর ফলে সন্তান যিনায় লিপ্ত হয়, তাহলে পিতা-মাতাও এর জন্য জবাবদিহির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই সন্তানকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করার অংশ হিসেবে উপযুক্ত বয়সে তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করা পিতা-মাতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
🖊️রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম
আরবি প্রভাষক বলদীআটা ফাজিল মাদ্রাসা ধনবাড়ী টাঙ্গাইল জেলা।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন