বিবাহ বনাম তথাকথিত আধুনিকতা: ইসলামের আলোকে সম্পর্কের পবিত্রতা রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম তারিখ:১/৪/২০২৬

 বিবাহ বনাম তথাকথিত আধুনিকতা: ইসলামের আলোকে সম্পর্কের পবিত্রতা

রচনায় মাওলানা মোঃ ফরিদুল ইসলাম 

তারিখ:১/৪/২০২৬



মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অধ্যায় হলো নারী-পুরুষের সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে ঘিরেই গড়ে ওঠে পরিবার, সমাজ এবং সভ্যতা। ইসলাম এই সম্পর্ককে অত্যন্ত মর্যাদা ও পবিত্রতার সাথে দেখেছে এবং এর জন্য নির্ধারণ করেছে সুস্পষ্ট বিধান। কিন্তু বর্তমান সমাজে আমরা এমন এক বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছি, যেখানে ইসলামের এই সুন্দর বিধানগুলোকে উপেক্ষা করে তথাকথিত আধুনিকতার নামে এক ভিন্ন ধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।


ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ (নিকাহ) শুধুমাত্র একটি সামাজিক চুক্তি নয়; বরং এটি একটি ইবাদত, একটি পবিত্র অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে নারী ও পুরুষ পরস্পরের জন্য হালাল হয় এবং তাদের সম্পর্ক পায় বৈধতা ও সম্মান। এই সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেনমোহর (মাহর), যা স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বের প্রতীক হিসেবে নির্ধারিত। এটি কোনো লেনদেন নয়, বরং নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি অনন্য ব্যবস্থা।


অন্যদিকে, ইসলামে বিয়ের পূর্বে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বা শারীরিক সম্পর্ক কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ, এমন সম্পর্ক ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। ইসলামের নির্দেশনা হলো—সংযম, শালীনতা এবং পর্দার মাধ্যমে নিজেকে সংরক্ষণ করা। একজন নারী ও একজন পুরুষ বিয়ের আগে পরস্পরের জন্য অপরিচিত (নন-মাহরাম), তাই তাদের মধ্যে সম্পর্কের সীমারেখা থাকা আবশ্যক।


বর্তমান সমাজে একটি বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়। যখন একজন যুবক বিবাহ করতে চায়, তখন তার সামনে আসে অসংখ্য শর্ত—আর্থিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক মর্যাদা, দেনমোহরের ব্যবস্থা, বিয়ের আয়োজন ইত্যাদি। ফলে অনেক সময় বিবাহ একটি কঠিন ও জটিল প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়। অথচ একই সমাজে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কগুলো সহজেই গড়ে উঠছে, যেখানে নেই কোনো দায়িত্ব, নেই কোনো জবাবদিহিতা। এই অবস্থাকে অনেকেই “স্বাভাবিক” বা “আধুনিকতা” হিসেবে গ্রহণ করছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।


ইসলাম এই প্রবণতাকে সমর্থন করে না। বরং ইসলাম বিয়েকে সহজ করার এবং হারাম থেকে দূরে থাকার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছে। প্রিয়নবী (সা.) যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন—যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্রকে পবিত্র রাখে। এ থেকেই বোঝা যায়, ইসলাম বিবাহকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে এবং এটিকে সমাজের জন্য কতটা কল্যাণকর মনে করেছে।


বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যতই সমাজে প্রচলিত হোক না কেন, তা ব্যক্তির নৈতিকতা ধ্বংস করে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এতে পরিবার ভেঙে যায়, বিশ্বাস নষ্ট হয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো—এই প্রবণতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং অন্যদেরও সচেতন করা।


পরিশেষে বলা যায়, আমাদের উচিত ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। বিয়েকে সহজ করা, দেনমোহরকে বাস্তবসম্মত রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় সামাজিক চাপ কমানো—এসবের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ ও পবিত্র সমাজ গড়ে তুলতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ